এক দশকেরও বেশি সময় আগে বিদেশি রেফারিদের ‘যৌন সেবা’ দেওয়ার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (কেএফএ)। শনিবার (৮ আগস্ট) এক বিবৃতিতে সংস্থাটি ওই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এবং ভবিষ্যতে এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম জেটিবিসির প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ২০১১ ও ২০১২ সালে একাধিকবার বিদেশি রেফারিদের অনৈতিক বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এসব ঘটনার মধ্যে ২০১৪ বিশ্বকাপ ও ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকের বাছাইপর্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচের সময়ের ঘটনাও ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
কেএফএ জানিয়েছে, ২০১৬ সালে দেশটির ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের করা একটি গোপন অডিট রিপোর্ট সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, বিদেশি রেফারিদের সিউলের বিভিন্ন ম্যাসাজ পার্লার ও অ্যাডাল্ট প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এসব ব্যয়ের কিছু অংশ সংস্থার করপোরেট ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে পরিশোধ করা হয় বলে তদন্তে উঠে আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১ সালের মার্চ থেকে ২০১২ সালের মার্চ পর্যন্ত সাতবার বিদেশি রেফারিদের জন্য অনুপযুক্ত বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এর মধ্যে এমন কিছু ম্যাসাজ পার্লারে যাওয়ার ঘটনাও ছিল, যেখানে ফি-এর সঙ্গে যৌন সেবার খরচ যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
কেএফএ বলেছে, ঘটনাগুলো এক দশকের বেশি পুরোনো হওয়ায় বর্তমান সংগঠনের অনেক কর্মকর্তা এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না। তবে অতীতের এমন ঘটনায় তারা গভীরভাবে দুঃখিত এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, বর্তমানে এ ধরনের কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা করপোরেট কার্ডের অপব্যবহার হচ্ছে না।
পুরোনো এই অভিযোগ সামনে আসার সময় দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবল প্রশাসন এমনিতেই বিভিন্ন বিতর্কের মধ্যে রয়েছে। জাতীয় দলের সাবেক কোচ হং মিয়ুং-বোর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে সম্প্রতি কেএফএর সদর দপ্তরে পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর ফুটবল প্রশাসন নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক