গাইবান্ধা সদর উপজেলার কাচারিবাজার এলাকার হরিজন সম্প্রদায়ের তরুণী আলোরাধার জীবন যেন সংগ্রাম আর স্বপ্নের এক অনন্য গল্প। দারিদ্র্য, সামাজিক বৈষম্য এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন এবং বর্তমানে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। তার এই লড়াইয়ে নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে একটি সেলাই মেশিন।
পরিচ্ছন্নতাকর্মী বাবার সীমিত আয়ে তিন বোনের পড়াশোনা চালানো ছিল কঠিন। ছোটবেলা থেকেই অভাব-অনটন আর সমাজের অবহেলা সঙ্গী হলেও আলোরাধা কখনো হাল ছাড়েননি। বিয়ের পরও আর্থিক সংকট থেকে মুক্তি মেলেনি। স্বামীর ছোট ব্যবসা থাকলেও তা দিয়ে সংসার চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে।
এমন পরিস্থিতিতে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে পাওয়া সেলাই মেশিন তার জীবনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। আলোরাধা জানান, এই মেশিন তার কাছে শুধু একটি উপহার নয়, বরং আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথ। তিনি ইতোমধ্যে ব্লাউজ, ফ্রক, পায়জামা ও শিশুদের পোশাক তৈরি করতে পারেন এবং এখন ঘরে বসেই আয় করার স্বপ্ন দেখছেন।
রবিবার (২৬ জুলাই) গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আলোরাধাসহ ৩৬ জন নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষে তারা এই মেশিন পেয়ে আবেগাপ্লুত হন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলবে এবং পরিবারের আর্থিক উন্নয়নে সহায়ক হবে। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু ব্যক্তিগত জীবন নয়, বরং পুরো সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। আলোরাধার মতো নারীরা স্বাবলম্বী হলে তাদের পরিবার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মও উপকৃত হবে।
সংগ্রাম পেরিয়ে দাঁড়ানোর এই গল্প শুধু আলোরাধার নয়, এটি বাংলাদেশের হাজারো নারীর স্বপ্ন ও সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি।
কসমিক ডেস্ক