নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল ‘অ্যাস্ট্রা’র সম্ভাব্য সাইবার সক্ষমতা নিয়ে সতর্ক হয়েছে ওপেনএআই। প্রাথমিক পরীক্ষায় মডেলটির এমন কিছু সক্ষমতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা ভবিষ্যতে গুরুতর সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ কারণে মডেলটির কিছু অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন কার্যক্রম সীমিত করার পাশাপাশি পরীক্ষার নিরাপত্তাব্যবস্থাও আরও কঠোর করা হয়েছে।
ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তা নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো এআই মডেল মানুষের সহায়তা ছাড়াই গুরুতর সফটওয়্যার দুর্বলতা বা জিরো-ডে এক্সপ্লয়েট শনাক্ত করতে পারলে কিংবা উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন সিস্টেমে জটিল সাইবার হামলা চালানোর সক্ষমতা দেখালে সেটিকে উচ্চ বা ‘ক্রিটিক্যাল’ ঝুঁকির পর্যায়ে বিবেচনা করা হয়। অ্যাস্ট্রার সক্ষমতা এখনো পুরোপুরি মূল্যায়ন করা হয়নি। তবে প্রাথমিক পরীক্ষার ফলাফলের কারণে মডেলটিকে এই ঝুঁকি থেকে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলা যাচ্ছে না।
নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় অ্যাস্ট্রার উন্নয়ন এখন নিয়ন্ত্রিত ও বিচ্ছিন্ন পরীক্ষাগারে চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মডেলটির নেটওয়ার্ক ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হবে এবং বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে এর সক্ষমতা যাচাই করা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে ওপেনএআইসহ কয়েকটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের এআই মডেলের সাইবার সক্ষমতা নিয়ে একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় কিছু মডেল অন্য প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করতে সক্ষম হওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। ফলে শক্তিশালী এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকানো এবং এর নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
তবে ওপেনএআই জানিয়েছে, গত জুলাইয়ে এআই প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসে ঘটে যাওয়া আলোচিত হ্যাকিং ঘটনার সঙ্গে অ্যাস্ট্রার কোনো সম্পর্ক নেই। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই অ্যাস্ট্রাকে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মডেলটির সক্ষমতা যাচাইয়ে সরকারি সংস্থা ও এআই নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও কাজ করবে ওপেনএআই।
কসমিক ডেস্ক