একসময় যে চাঁদজয়ের প্রতিযোগিতা ছিল United States ও Soviet Union-এর মধ্যে, এখন তা নতুন রূপে ফিরে এসেছে। একবিংশ শতাব্দীতে এসে এই প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছে China। তবে এবারের লড়াই শুধু প্রতীকী নয়, বরং চাঁদের মূল্যবান সম্পদ ও ভবিষ্যৎ মহাকাশ অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ নিয়েই এই প্রতিযোগিতা।
বর্তমান চন্দ্র অভিযানের মূল লক্ষ্য চাঁদের দক্ষিণ মেরু, যেখানে বিপুল পরিমাণ বরফের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এই বরফ ভবিষ্যতে নভোচারীদের পানির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি হাইড্রোজেন ও অক্সিজেনে রূপান্তর করে রকেট জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। ফলে এই অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
NASA-এর নেতৃত্বে পরিচালিত Artemis program-এর লক্ষ্য হলো চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে একটি স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন করা। ইতিমধ্যে আর্টেমিস-২ মিশনের মাধ্যমে নভোচারীরা চাঁদের কক্ষপথ ঘুরে এসেছে এবং শিগগিরই আর্টেমিস-৩ মিশনের মাধ্যমে আবারও চাঁদের মাটিতে মানুষ নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে, China National Space Administration-এর তত্ত্বাবধানে চীন তাদের Chang'e program-এর মাধ্যমে চাঁদের অন্ধকার অংশ থেকেও নমুনা সংগ্রহ করেছে। এছাড়া ২০২১ সাল থেকে তারা নিজেদের মহাকাশ স্টেশন Tiangong space station সফলভাবে পরিচালনা করছে। চীন ২০৩০ সালের মধ্যে মানুষ পাঠানো এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে একটি স্থায়ী চন্দ্রঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করছে।
তবে এই প্রতিযোগিতার বড় প্রশ্ন হলো—চাঁদের জমি কি সত্যিই দখল করা সম্ভব? ১৯৭৯ সালের জাতিসংঘের চন্দ্র চুক্তি অনুযায়ী কোনো দেশই চাঁদের ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করতে পারে না। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও চীন—কেউই এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেনি। ফলে বাস্তবে চাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলো দখল নিয়ে এক ধরনের নীরব প্রতিযোগিতা ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে, চাঁদের দক্ষিণ মেরু ঘিরে এই প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতের মহাকাশ রাজনীতি, অর্থনীতি ও প্রযুক্তির গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। অনেকেই এটিকে নতুন এক “মহাকাশ যুদ্ধ”-এর সূচনা হিসেবেও দেখছেন।
কসমিক ডেস্ক