ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত ভারতের আসামের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলিউড অভিনেতা সালমান খান। বন্যায় ঘরবাড়ি হারানো পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে ৫০০টি আধা স্থায়ী ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে একটি বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার (এনজিও) সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছেন এই অভিনেতা।
মিড-ডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আসামের বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে শিবসাগর। এর মধ্যে নেপালি খুটি গ্রামে ইতোমধ্যে প্রায় ২২০টি আধা স্থায়ী ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ঘর বন্যার মতো দুর্যোগে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাঁশ ও টিনের ছাদ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে আনুমানিক ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার রুপি খরচ হচ্ছে।
এর আগে সালমান খানের প্রতিষ্ঠান ‘বিইং হিউম্যান’-এর পক্ষ থেকে বন্যাকবলিত এলাকায় খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছিল। এবার ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পেছনে বলিউড অভিনেতা রণদীপ হুদার ত্রাণ কার্যক্রমও ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রণদীপ হুদা সরেজমিনে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ত্রাণ বিতরণে অংশ নিচ্ছেন। তিনি সালমানকে দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি এবং মানুষের প্রয়োজন সম্পর্কে জানান।
পরে গ্লোবাল শিখসের প্রতিষ্ঠাতা অমরপ্রীত সিংয়ের সঙ্গে সালমানের আলোচনা হয়। সংস্থাটি বাঁশ ও টিন ব্যবহার করে আধা স্থায়ী ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা জানালে সালমান এই উদ্যোগে যুক্ত হন। যৌথভাবে ৫০০টি ঘর নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইতোমধ্যে প্রথম ধাপে ২২০টি ঘরের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এসব ঘর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে হস্তান্তর করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন ৮ থেকে ১০টি পর্যন্ত ঘর নির্মাণের সক্ষমতা রয়েছে তাদের।
এদিকে রণদীপ হুদাও শুরু থেকেই আসামের বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় সক্রিয় রয়েছেন। খাবার বিতরণের পাশাপাশি শিবসাগর রেলস্টেশনে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর জন্য রান্না ও খাবার সরবরাহ করছেন তিনি। মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে সবার সামর্থ্য অনুযায়ী দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এই অভিনেতা।
কসমিক ডেস্ক