অনলাইন ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ছাত্র বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে নাশকতার পরিকল্পনা এবং পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদ-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। তদন্তকারীদের দাবি, তাদের একজন দিল্লির জন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশের পোশাক পরে অনুপ্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছিলেন।
গ্রেফতার হওয়া প্রধান সন্দেহভাজনের নাম হামিম মণ্ডল। তাকে পূর্ব বর্ধমান জেলা থেকে আটক করা হয়েছে। এসটিএফের মহাপরিদর্শক গৌরব শর্মা সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, পাকিস্তানে অবস্থানকারী কথিত হ্যান্ডলারদের নির্দেশে হামিম এই পরিকল্পনায় যুক্ত হন। একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের এক মন্ত্রীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বও তাকে দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এসটিএফ জানায়, হামিম মণ্ডলকে আদালত ১৪ দিনের হেফাজতে পাঠিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদে পশ্চিমবঙ্গে সক্রিয় কয়েকজন কথিত জইশ-সংশ্লিষ্ট হ্যান্ডলারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
এদিকে, ঝাড়খণ্ড থেকে অর্পিতা সরকার নামে এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, হামিম ও অর্পিতা মিলে এক মন্ত্রীর ছেলেকে ‘হানিট্র্যাপ’-এ ফেলে অপহরণ এবং পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা করছিলেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এসটিএফের দাবি, দুই সন্দেহভাজনের কাছ থেকে যুক্তরাজ্য ও মেক্সিকো থেকে ইস্যুকৃত আন্তর্জাতিক সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এসব সিম ব্যবহার করে তারা এনক্রিপ্টেড মাধ্যমে কথিত বিদেশি হ্যান্ডলার ও ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা আরও দাবি করেছেন, হামিম মণ্ডল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে উগ্রবাদে প্রভাবিত হন এবং পরে কথিত পাকিস্তানভিত্তিক অপারেটিভদের সঙ্গে যুক্ত হন। বর্তমানে এই নেটওয়ার্কের বিস্তার, সম্ভাব্য অন্যান্য সদস্য এবং সীমান্তপারের যোগাযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক