বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে এক ঢিলে দুই পাখি মেরেছে স্পেন। একদিকে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থেকে ইতালির সর্বোচ্চ রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় স্পেন পেছনে ফেলেছে আর্জেন্টিনার ৩৬ ম্যাচের অপরাজিত থাকার কীর্তিকেও।
ফ্রান্সের বিপক্ষে জয়ের আগে স্পেন ও আর্জেন্টিনা উভয় দলেরই টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড ছিল। সেমিফাইনালে জয় পাওয়ার পর স্পেনের অপরাজিত ম্যাচের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৭-এ, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে ইতালির সর্বোচ্চ রেকর্ডের সমান।
লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেনের এই দুর্দান্ত যাত্রা শুরু হয় ২০২৪ সালের ২৬ মার্চ। সেদিন আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে হারের পর আর কোনো ম্যাচে পরাজিত হয়নি স্প্যানিশরা। এরপর তারা ৩০টি ম্যাচে জয় এবং ৭টি ম্যাচে ড্র করেছে।
ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালেও ছিল স্পেনের আধিপত্য। প্রথমার্ধে মিকেল ওইয়ারজাবাল পেনাল্টি থেকে দলকে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে পেদ্রো পোরো ব্যবধান দ্বিগুণ করলে ২-০ গোলের জয় নিশ্চিত হয় এবং স্পেন বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয়।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা সবচেয়ে বেশি ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডটি এতদিন এককভাবে ইতালির দখলে ছিল। ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২১ সালের অক্টোবর পর্যন্ত টানা ৩৭ ম্যাচে হারেনি ইতালি। এবার সেই কীর্তিতে ভাগ বসিয়েছে স্পেন।
ফিফা ও উয়েফার প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল পেনাল্টি শুটআউটে পরাজিত হলেও তা আনুষ্ঠানিক পরাজয় হিসেবে গণ্য হয় না। তাই নেশন্স লিগের ফাইনালে পর্তুগালের কাছে টাইব্রেকারে হারলেও স্পেনের অপরাজিত থাকার রেকর্ড অক্ষুণ্ন রয়েছে।
এখন স্পেনের সামনে নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ। বিশ্বকাপের ফাইনালে জয় পেলে তারা ইতালিকে ছাড়িয়ে টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত থেকে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নতুন রেকর্ড গড়বে। একই সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয়েরও হাতছানি থাকবে স্প্যানিশদের সামনে।
কসমিক ডেস্ক