হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধনের লক্ষ্যে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টার্মিনালটি চালু করতে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসার বৈঠকে বিষয়টি গুরুত্ব পায়। বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং বিমান পরিবহন খাতের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়।
মন্ত্রী আফরোজা খানম জানান, সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী আগামী ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, সময়মতো প্রকল্প চালু করতে অপারেশনাল রেডিনেস কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা এবং জাপানি স্টেকহোল্ডারদের দরপত্র প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসা তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পসহ বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।
প্রায় ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) অর্থায়ন করছে। নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে জাপানের মিতসুবিশি করপোরেশন, ফুজিতা করপোরেশন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সি অ্যান্ড টি করপোরেশনের যৌথ উদ্যোগ।
তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রীসেবা সক্ষমতা বর্তমান প্রায় ৮০ লাখ থেকে বেড়ে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখে পৌঁছাবে। একই সঙ্গে আধুনিক ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং, স্বয়ংক্রিয় ইমিগ্রেশন, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অধিকসংখ্যক বোর্ডিং ব্রিজ এবং আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা নিশ্চিত হবে। এছাড়া কার্গো পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক অ্যাভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কসমিক ডেস্ক