যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্রের ঘাটতি নেই, দাবি ট্রাম্পের The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্রের ঘাটতি নেই, দাবি ট্রাম্পের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 27, 2026 ইং
যুক্তরাষ্ট্রে অস্ত্রের ঘাটতি নেই, দাবি ট্রাম্পের ছবির ক্যাপশন:

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুদ কমে যাচ্ছে—এমন সংবাদ প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে এবং বর্তমান মজুদ দেশের প্রয়োজনের চেয়েও বেশি।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। তার ভাষায়, বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুদ অনেক বেশি এবং তা পর্যাপ্ত।

সম্প্রতি দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসিএনএন-এর কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা এবং প্রতিরক্ষামূলক সামরিক অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেদনে বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট, টমাহক ক্রুজ এবং এসএম-৩ প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করা হয়।

তবে ট্রাম্প এসব প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করে বলেন, অস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব প্রতিবেদনকে "লজ্জাজনক" বলে অভিহিত করেন এবং দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার এখনও অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে।

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে প্যাট্রিয়ট ও এসএম-৩ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হলেও সামগ্রিক মজুদ এখনও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। কর্মকর্তারা আরও মনে করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোর ওপর আগাম হামলা জোরদার করা গেলে প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজনও কমে আসবে।

অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেন, প্রকৃত সংকটে রয়েছে ইরান। তার ভাষায়, ইরানের অস্ত্রের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে এবং দেশটির হামলা চালানোর সক্ষমতাও কমে এসেছে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক অভিযানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো এবং উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করেছেন। ছবিগুলোতে ইরানের কৌশলগত স্থাপনা ও তেল অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে সামরিক হামলার কাল্পনিক দৃশ্য এবং ইরানি তেলবাহী জাহাজ সম্পর্কিত বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। এসব ছবিকে অনেকেই রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, অস্ত্রের মজুদ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেও ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ বজায় রাখার অবস্থানই পুনর্ব্যক্ত করছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং সামরিক প্রস্তুতির ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েও দেশটির নীতিনির্ধারক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
মাছের ঘের থেকে তরুণের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার

মাছের ঘের থেকে তরুণের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার