সংশোধিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০০৫’ মেনে চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রচারের আহ্বান জানিয়েছেন দেশের চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা মনে করেন, চলচ্চিত্রে তামাক ও মাদকের নেতিবাচক উপস্থাপন তরুণ সমাজের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে এবং এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
রবিবার (২৫ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘চলচ্চিত্রে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বাস্তবায়ন: পরিচালক ও সংশ্লিষ্টদের করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। সভাটি অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন-এর জহির রায়হান অডিটোরিয়ামে। এর আয়োজন করে মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস) এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি।
সভায় বক্তারা বলেন, যদিও তামাকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সাধারণ মানুষ অনেকটাই সচেতন, তবুও তামাক কোম্পানিগুলো বিভিন্ন কৌশলে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের আকৃষ্ট করতে নানা উপস্থাপনা ব্যবহার করা হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজনদের মধ্যে ছিলেন পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহিন সুমন, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল, এবং বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি। এছাড়া মানসের সভাপতি ড. অরূপরতন চৌধুরী তামাকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।
বক্তারা আরও জানান, সংশোধিত আইনে সিনেমা, নাটক ও প্রামাণ্যচিত্রে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের দৃশ্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই নির্মাতা, শিল্পী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করতে হবে।
তারা বলেন, চলচ্চিত্রে নায়ক বা কেন্দ্রীয় চরিত্রের আচরণ দর্শকদের ওপর বিশেষ প্রভাব ফেলে। ফলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ধূমপান বা মাদক সেবনের দৃশ্য দেখানো হলে তা তরুণদের অনুকরণে প্ররোচিত করতে পারে।
সবশেষে বক্তারা সুস্থ বিনোদন নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে তামাকমুক্ত ও সচেতনতামূলক চলচ্চিত্র নির্মাণে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
কসমিক ডেস্ক