শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগে অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। রবিবার (২৬ জুলাই) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শুধু ছাত্রদলের নেতাদের বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে তারা প্রতিবাদস্বরূপ অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিন, সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য আনিছুর রহমান এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলামসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানের মঞ্চের প্রথম সারিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে স্থান দেওয়া হলেও প্রক্টর, ছাত্র পরামর্শক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন এবং প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতিদের প্রথম সারিতে স্থান না দেওয়ায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এছাড়া অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সহসভাপতিসহ তিনজনকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। তাদের বক্তব্য প্রায় ২১ মিনিট স্থায়ী হয়। তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোনো প্রতিনিধিকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।
শেকৃবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক নাঈম ইসলাম বলেন, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বৈষম্য দূর করা। কিন্তু একটি মাত্র ছাত্রসংগঠনকে বক্তব্যের সুযোগ দিয়ে অন্যদের বঞ্চিত করা দৃশ্যত বৈষম্যমূলক। তিনি বলেন, যদি বক্তব্যের সুযোগ না থাকে, তাহলে কারও জন্যই থাকা উচিত নয়। আর যদি সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে সব পক্ষের জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আতিকুর রহমানও একই অভিযোগ তুলে বৈষম্যের প্রতিবাদে অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আরফান আলী বলেন, অনুষ্ঠানে অতিথির সংখ্যা বেশি এবং সময় সীমিত থাকায় সবাইকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আরও সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে
কসমিক ডেস্ক