কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ সাইফুল মালিকের মৃত্যুতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে ৬টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। প্রথমে তাকে কুমিল্লা মডার্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার গ্রিন লাইফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে অস্ত্রোপচারের পরও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
মোহাম্মদ সাইফুল মালিক ৩৪তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ২০১৬ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন এবং কর্মজীবনে সততা, দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্বের জন্য সহকর্মী এবং সাধারণ মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত ছিলেন। সর্বশেষ তিনি কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তার ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি ছিলেন একজন শিক্ষিত ও মেধাবী ব্যক্তি। ১৯৮১ সালে জন্মগ্রহণ করা সাইফুল মালিক চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ২০০৫ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালামের সন্তান।
মৃত্যুকালে তিনি তার সহধর্মিণী, দুই সন্তান, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান মরহুমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “সাইফুল মালিক একজন সৎ, বিনয়ী, মৃদুভাষী ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা একজন দক্ষ সহকর্মীকে হারালাম।” তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
সাইফুল মালিকের মৃত্যু শুধু তার পরিবার বা সহকর্মীদের জন্যই নয়, পুরো পুলিশ বাহিনীর জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক