বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যে বড় ধাক্কা, কমেছে আমদানি-রপ্তানি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যে বড় ধাক্কা, কমেছে আমদানি-রপ্তানি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 22, 2026 ইং
বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যে বড় ধাক্কা, কমেছে আমদানি-রপ্তানি ছবির ক্যাপশন:

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। ভারতের শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৬.১৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১০.৫৮৭ বিলিয়ন ডলারে। অর্থাৎ পাঁচ বছরে ভারতের রপ্তানি কমেছে প্রায় ৫.৫৭ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৩৪ শতাংশ।

অন্যদিকে, ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানিও কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ২.০০৫ বিলিয়ন ডলার, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে ১.৭৮০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন, বিভিন্ন বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ এবং নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক না হওয়ায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক এম কে মুজেরী বলেন, দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব তৈরি হলে তার প্রভাব ব্যবসা-বাণিজ্যেও পড়ে। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত যেমন বাংলাদেশের একটি বড় বাজারে রপ্তানি হারাচ্ছে, তেমনি বাংলাদেশেরও ভারতের বাজারে রপ্তানি কমছে। বিকল্প উৎস থেকে পণ্য আমদানি করতে হলে বেশি ব্যয় হলে তা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলেও তিনি মত দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কয়েক বছর ধরে দুই দেশের সচিব পর্যায়ের বাণিজ্য বৈঠক এবং জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। পাশাপাশি কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সেপা) নিয়ে আলোচনা, সীমান্ত হাটের কার্যক্রম এবং কিছু বাণিজ্যিক সুবিধাও স্থবির রয়েছে।

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট কামালউদ্দিন শিমুল বলেন, ভারতের বন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশি পণ্য তৃতীয় দেশে রপ্তানির সুযোগ বন্ধ হওয়া এবং স্থলবন্দর দিয়ে কিছু পণ্য আমদানিতে জটিলতা তৈরি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। একই সঙ্গে দেশের কিছু তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারত থেকে সুতা ও কাঁচামালের চাহিদাও কমেছে।

নিট তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, গত এক বছরে প্রায় ৪০০টি গার্মেন্ট কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারত থেকে কাঁচামাল আমদানির পরিমাণও কমেছে। তিনি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য স্বাভাবিক করতে দ্রুত উচ্চপর্যায়ের আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি অশুল্ক বাধা দূর করা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং লজিস্টিক সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন। এতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও গতিশীল হতে পারে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ঈদে বৃষ্টি ও কালবৈশাখীর আশঙ্কা, সতর্ক থাকার পরামর্শ

ঈদে বৃষ্টি ও কালবৈশাখীর আশঙ্কা, সতর্ক থাকার পরামর্শ