১৫৩ ফুট গভীরে রাজধানীর পাতালরেল The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

১৫৩ ফুট গভীরে রাজধানীর পাতালরেল

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 21, 2026 ইং
১৫৩ ফুট গভীরে রাজধানীর পাতালরেল ছবির ক্যাপশন:

রাজধানীর যানজট কমাতে এবং আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও সম্প্রসারণ করতে এমআরটি লাইন-৫ (সাউদার্ন রুট) প্রকল্পের সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। সংশোধিত প্রস্তাবে প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় আগের প্রাক্কলনের তুলনায় প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৪৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) ও পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির রুটের অ্যালাইনমেন্ট এবং চূড়ান্ত নকশা ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদনের পর জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এটি উপস্থাপন করা হবে।

প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেট্রোরেল লাইনের মধ্যে ১৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার হবে ভূগর্ভস্থ পাতালরেল এবং ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার হবে উড়ালপথ। মাটির নিচে ট্রেন চলবে সর্বনিম্ন প্রায় ৫৬ ফুট থেকে সর্বোচ্চ ১৫৩ ফুট গভীরতায়, যা দেশের প্রথম বড় আকারের পাতাল মেট্রোরেল অবকাঠামোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী, প্রকল্পে সরকারি তহবিল থেকে ১৫ হাজার কোটির বেশি এবং বৈদেশিক ঋণ ও উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা অর্থায়ন করা হবে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) প্রধান অর্থায়নকারী হিসেবে সিভিল ও কনসালটেন্সি প্যাকেজে অর্থ দেবে, আর দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংক সিস্টেম প্যাকেজে অর্থায়ন করবে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রকল্পটির জন্য ৩ হাজার ৯১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অর্থায়নসংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু করার লক্ষ্যে ডিএমটিসিএল ইতোমধ্যে অগ্রিম ক্রয় কার্যক্রম শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, এতে প্রকল্প অনুমোদনের পর অন্তত এক বছর সময় সাশ্রয় হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত মাত্র ৩২ মিনিটে যাতায়াত করা যাবে। ১৪টি স্টেশনে থামা ৮ কোচবিশিষ্ট ট্রেনের প্রতিটিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৮৮ জন যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে। ব্যস্ত সময়ে প্রতি ৩ মিনিট ৩০ সেকেন্ড পরপর ট্রেন চলবে এবং প্রতি ঘণ্টায় উভয়মুখে প্রায় ৫৩ হাজার ২০০ যাত্রী পরিবহন করা যাবে।

ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, ট্রেনগুলো উড়ালপথে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার এবং পাতালপথে ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার গতিতে চলবে। আধুনিক প্রযুক্তি, সাউন্ড ব্যারিয়ার এবং ভূগর্ভস্থ টানেল ব্যবহারের কারণে শব্দ ও কম্পন আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের নিচে থাকবে এবং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

বর্তমানে প্রকল্পের প্রকৌশল নকশা সম্পন্ন হয়েছে এবং দরপত্র সংক্রান্ত প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। হেমায়েতপুর ডিপোর ভূমি অধিগ্রহণ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি ১৪টি স্টেশন ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ এবং অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কাজও বিভিন্ন পর্যায়ে এগিয়ে চলছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ