দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যা এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। রোববার (১৯ জুলাই) প্রকাশিত সর্বশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এফএফডব্লিউসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) এবং মারকুলি (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে এসব এলাকার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
এছাড়া আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও কিছু এলাকায় বর্তমান পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে বলেও জানিয়েছে কেন্দ্রটি।
এদিকে নেত্রকোণা জেলার সোমেশ্বরী নদীর পানিও কয়েকটি স্থানে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকায় সাময়িক বন্যা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে, ২০ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কয়েকটি স্থানে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে এসব জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ, স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ এবং বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
কসমিক ডেস্ক