বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে সাগর। এর জেরে চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ নৌরুটে টানা তিন দিন ধরে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের নৌযান চলাচল। ফলে বিআইডাব্লিউটিসি পরিচালিত যাত্রীবাহী জাহাজ, ফেরি ও অন্যান্য নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় জরুরি রোগী, পর্যটক এবং সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি পণ্যবাহী শতাধিক যানবাহনও আটকা পড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারির পর গত ২৫ জুলাই থেকে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চলতি জুলাই মাসজুড়েই বারবার নৌপথ বন্ধ থাকায় দ্বীপবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত টানা ৯ দিন এবং ১৫ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত আরও ৫ দিন নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল। সর্বশেষ তিন দিনের বন্ধসহ ২৭ জুলাই পর্যন্ত চলতি মাসে মোট ১৭ দিন সন্দ্বীপ চ্যানেলে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
প্রায় চার লাখ মানুষের বসবাসের দ্বীপ সন্দ্বীপের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম নৌপথ। ফলে নৌচলাচল বন্ধ হয়ে গেলে চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চাকরি এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। জরুরি রোগীদের অনেক সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ কাঠের ট্রলারে চ্যানেল পার হতে হয়।
সম্প্রতি ১৯ জুলাই উত্তাল সাগরে একটি কাঠের ট্রলার থেকে দুই যাত্রী পানিতে পড়ে যান। পরে তাদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এমন ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অতীতেও পারাপার সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে আন্দোলনের পর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত পর্যন্ত সদরঘাট-সন্দ্বীপ ও কুমিরা-গুপ্তছড়া রুটে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমানে সতর্ক সংকেত জারি হলেই বিআইডাব্লিউটিসি নিরাপত্তার স্বার্থে নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়।
নিরাপদ যাত্রী আন্দোলনের সংগঠক খাদেমুল ইসলাম বলেন, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি হলেই সরকারি নৌযান বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে মানুষ তখন ঝুঁকি নিয়ে কাঠের ট্রলারে পারাপার করতে বাধ্য হয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
বিআইডাব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান বলেন, ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেতের সময় ফেরি বা জাহাজ চলাচলের অনুমোদন নেই। যাত্রীদের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর উত্তাল রয়েছে। তাই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক