রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় নির্মাণাধীন মিনি স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, স্টেডিয়ামের কলামের বেজমেন্টে দেওয়া কংক্রিটের ঢালাই হাতের টানেই গুঁড়ো হয়ে উঠে আসছে। এ অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গেলে ঠিকাদারের লোকজনের হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে উপজেলার পীরগাছা-রংপুর সড়কের ফকিরের মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে হামলার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উদ্যোগে প্রায় ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন একর জমির ওপর পীরগাছা উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর ২০২৪ সালের নভেম্বরে স্থাপন করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নির্ধারিত মান বজায় রাখা হচ্ছে না। তাদের দাবি, কলামের বেজমেন্টে প্রয়োজনীয় রড ব্যবহার করা হয়নি, পাথরের পরিবর্তে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে এবং সিমেন্টের পরিমাণও কম দেওয়া হয়েছে। এমনকি ঢালাইয়ের সাত দিন পরও কংক্রিট শক্ত না হয়ে হাতের টানেই ভেঙে উঠে আসছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার নির্মাণকাজের এই অবস্থা দেখে তারা ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান। কিন্তু শুক্রবার সকালে একইভাবে কাজ চলতে থাকলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নিলে স্থানীয় পক্ষের অন্তত তিনজন আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়দের অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা ঘটনাস্থলে যান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
জানা গেছে, প্রকল্পটির মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাজবাড়ীভিত্তিক জিএনএন অ্যান্ড বিসি (জেভি)। মাঠপর্যায়ে সাব-ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে ঢাকার মোন্তা বিল্ডার্স।
অভিযোগের বিষয়ে মোন্তা বিল্ডার্সের প্রতিনিধি সুমন মিয়া বলেন, বৃষ্টির কারণে ঢালাইয়ের কিছু অংশ উঠে যেতে পারে। তবে তিনি দাবি করেন, কলামের বেজমেন্টের ঢালাইয়ের কাজ এখনো শুরুই হয়নি।
অন্যদিকে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জায়িদ ইমরুল মোজাক্কিন বলেন, প্রকল্পটি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সরাসরি বাস্তবায়ন করছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের তদারকির দায়িত্ব নেই। তবে নিম্নমানের নির্মাণকাজের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
কসমিক ডেস্ক