চট্টগ্রামসহ বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত, জানালো সরকার The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

চট্টগ্রামসহ বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত, জানালো সরকার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 17, 2026 ইং
চট্টগ্রামসহ বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত, জানালো সরকার ছবির ক্যাপশন:

দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড়ধস পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করেছে সরকার। একই সঙ্গে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় ত্রাণ বিতরণ, আশ্রয়কেন্দ্র পরিচালনা এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

শুক্রবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়াধীন গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা তথ্য অফিস এবং তথ্য অধিদপ্তারের আঞ্চলিক অফিস থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক তথ্য বিবরণীতে এসব তথ্য জানানো হয়।

তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকার দপ্তর ও সংস্থাগুলো আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস, পাহাড়ধস এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

চট্টগ্রাম জেলা তথ্য অফিসের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত বহাল রয়েছে এবং আগামী ২ থেকে ৩ দিন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ১২ জুলাই দুপুর ২টা থেকে রেল চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৫টি উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে, যার মধ্যে সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী ও সন্দ্বীপ উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।

চট্টগ্রাম মহানগরের ২৫টি ওয়ার্ডসহ প্লাবিত ১৭৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬৩টি ইউনিয়ন অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ির সংখ্যা ৯ হাজার ২০৮টি এবং সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বসতবাড়ি ৬ হাজার ২০টি। এছাড়া ৪০৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১ হাজার ৫৯২ কিলোমিটার সড়ক এবং ১৬৯টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১৬ জন।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ১ হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং ৯৫ লাখ টাকা ত্রাণ বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৮০ মেট্রিক টন চাল, ৮৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং ৫৬ হাজার ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।

খাগড়াছড়ি জেলা তথ্য অফিসের তথ্যে বলা হয়েছে, বর্তমানে জেলায় বৃষ্টি নেই এবং নতুন করে কোনো পাহাড়ধস বা ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। অধিকাংশ এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে গেছে। জেলায় ২৭৫টি বসতবাড়ি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৭৬৬টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি খাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১১২ কোটি ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৭ হাজার ৩৪৪ জন। মৎস্য খাতে ক্ষতির পরিমাণ ৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা। জেলায় ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এছাড়া ৪০০ টন চাল, ৪০ লাখ টাকা ও ৪৬ বান্ডিল ঢেউটিন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অতিরিক্ত ১০০ টন চাল, ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ৪৬ বান্ডিল ঢেউটিন মজুদ রয়েছে। পাহাড়ধস, বন্যা ও বন্যা-পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারও অব্যাহত রয়েছে।

কক্সবাজার জেলা তথ্য অফিস জানিয়েছে, নতুন করে কোনো পাহাড়ধস বা ভূমিধসের ঘটনা ঘটেনি। জেলায় ২ হাজার ৪৭৫টি বসতবাড়ি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৫ হাজার ৭৭৩টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি খাতে প্রায় ৮০ কোটি টাকা এবং মৎস্য খাতে ৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং ৪৪৫ টন চাল ও ৪৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাইকিং ও সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

হবিগঞ্জ জেলা তথ্য অফিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হবিগঞ্জ সদর, বাহুবল ও বানিয়াচং উপজেলায় খোয়াই নদীর ভাঙনের কারণে আকস্মিক বন্যায় ৪ হাজার ৫৫০টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছিল। বর্তমানে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় প্লাবিত এলাকায় পানি নামতে শুরু করেছে।

মৌলভীবাজার জেলা তথ্য অফিস জানিয়েছে, মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৬টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু রাখা হয়েছে এবং ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

বান্দরবান জেলা তথ্য অফিসের সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়েছে, বর্তমানে জেলার দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ২০ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধস, বন্যা ও বন্যা-পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচার এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মোহাম্মদ আমিরের বিশ্লেষণ: ভারত এখনো হট ফেবারিট নয়

মোহাম্মদ আমিরের বিশ্লেষণ: ভারত এখনো হট ফেবারিট নয়