মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ধলাই নদীর পানি কমতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে নদী তীরবর্তী এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের লংগুরপাড় গ্রামের প্রতিরক্ষা বাঁধে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর পানি কমে যাওয়ার পর ভেজা মাটি ধসে পড়তে শুরু করেছে। নদীর পাড়জুড়ে বড় বড় ফাটল তৈরি হয়েছে। বাঁশঝাড়, গাছপালা এবং বিশাল মাটির চাঙড় যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে পুরো এলাকার বসতভিটা, কৃষিজমি এবং বিভিন্ন স্থাপনা নদীভাঙনের কবলে পড়তে পারে।
লংগুরপাড় গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে ধলাই নদীর পানি বাড়লে যেমন বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়, তেমনি পানি কমতে শুরু করলেই শুরু হয় তীব্র ভাঙন। তাদের আশঙ্কা, প্রতিরক্ষা বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার না করলে সামান্য বৃষ্টিপাত বা নদীর পানির চাপ বাড়লেই গ্রামের বড় অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা গোপাল দত্ত বলেন, নদীর পানি আবার বাড়লে তাদের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি দ্রুত বাঁধ সংস্কার করে এলাকাবাসীকে এই দুর্ভোগ থেকে রক্ষার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, লংগুরপাড় গ্রামের প্রতিরক্ষা বাঁধে যে বড় ফাটল ও ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে, তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন এবং উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অবহিত করেছেন। তিনি জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা এবং স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান জানান, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। তিনি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ জানান, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ইতোমধ্যে পরিদর্শন করা হয়েছে। বাঁধটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।
কসমিক ডেস্ক