ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া নিশ্চিত করার পর দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ভিন্নধর্মী প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া হামলার প্রেক্ষাপটে খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই কিছু মানুষ রাস্তায় নেমে গান বাজিয়ে ও আতশবাজি ফুটিয়ে উদযাপন করেছে বলে বার্তা সংস্থা Agence France-Presse (এএফপি)-এর ভেরিফায়েড ফুটেজে দেখা গেছে।
প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকায় মানুষ দলবেঁধে রাস্তায় অবস্থান করছে। কেউ হাততালি দিচ্ছেন, কেউ গাড়ির হর্ন বাজাচ্ছেন, আবার কেউ জোরে গান চালিয়ে উল্লাস প্রকাশ করছেন। কিছু ফুটেজে আতশবাজি ফুটানোর দৃশ্যও দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব ভিডিওর সত্যতা এএফপি যাচাই করেছে বলে জানানো হয়েছে।
খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি খামেনির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন। তার ওই পোস্টের পরপরই বিভিন্ন স্থানে উদযাপনের দৃশ্য সামনে আসে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, রাজধানী তেহরান-এর বিভিন্ন অংশে উচ্চস্বরে উল্লাসধ্বনি শোনা যায়। অনেক বাসিন্দা নিজেদের ঘরের জানালার পাশে দাঁড়িয়ে হাততালি দেন এবং জোরে গান বাজান। কেউ কেউ বাইরে বেরিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন। ভিডিওতে অবিরাম বাঁশি বাজানো এবং উচ্ছ্বাস প্রকাশের দৃশ্যও দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার আগে থেকেই দেশজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। যৌথ হামলার পরপরই তার মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পরে রাষ্ট্রীয় মিডিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে। এরই প্রেক্ষাপটে ইরানের ভেতরে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়—একদিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক ঘোষণা, অন্যদিকে কিছু অংশের মানুষের প্রকাশ্য উদযাপন।
এএফপি জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বহু ভিডিও যাচাই করে দেখা গেছে যে, উল্লাসের দৃশ্যগুলো সাম্প্রতিক এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের। এসব ফুটেজ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও প্রচারিত হয়েছে।
খামেনি দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার মৃত্যুর ঘটনায় দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদনে মূলত তার মৃত্যুর পর জনতার প্রতিক্রিয়া ও উদযাপনের চিত্রই সামনে এসেছে।
একই ঘটনার প্রেক্ষিতে দেশের ভেতরে শোক ও উল্লাস—দুই ধরনের দৃশ্যই দেখা যাওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিস্থিতি কীভাবে এগোবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে খামেনির মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর ইরানের বিভিন্ন এলাকায় যে উদযাপনের দৃশ্য দেখা গেছে, তা ইতোমধ্যেই বিশ্বমাধ্যমে গুরুত্ব পেয়েছে।
কসমিক ডেস্ক