মেডিক্যালের স্মৃতিবিজড়িত হোস্টেলে জুবাইদার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মেডিক্যালের স্মৃতিবিজড়িত হোস্টেলে জুবাইদার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 11, 2026 ইং
মেডিক্যালের স্মৃতিবিজড়িত হোস্টেলে জুবাইদার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ছবির ক্যাপশন:

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ডিএমসি) ডে-২০২৬ উপলক্ষে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান কলেজের স্মৃতিবিজড়িত কাজী ফজলুল হক মহিলা হোস্টেল পরিদর্শন করেন। দীর্ঘদিন পর নিজের শিক্ষাজীবনের প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ডা. জুবাইদা রহমান। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্মৃতিচারণ, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সেলফি তোলার মধ্য দিয়ে প্রাণবন্ত মুহূর্ত কাটান এই দম্পতি।

শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১০টায় বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ডিএমসি ডে-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণী কাজী ফজলুল হক মহিলা হোস্টেলে যান। উল্লেখ্য, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে অধ্যয়নকালে ডা. জুবাইদা রহমান এই হোস্টেলেই বসবাস করতেন। ফলে দীর্ঘদিন পর সেই পরিচিত পরিবেশে ফিরে তাঁর মনে ভিড় করে অসংখ্য স্মৃতি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হোস্টেলে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শুভকামনা জানিয়ে বলেন, "দোয়া করি, আপনারা নিজ নিজ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত হোন।" তিনি ভবিষ্যতের চিকিৎসকদের দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত হয়ে কাজ করার আহ্বানও জানান।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সকাল থেকেই হোস্টেলের মূল ফটকে ভিড় করেন শিক্ষার্থীরা। প্রধানমন্ত্রী ও ডা. জুবাইদাকে কাছে পেয়ে তারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। অনেকে মোবাইল ফোনে ছবি তোলেন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যক্তিগত একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "আগে যখন জুবাইদা রহমানকে মেডিকেলে নিয়ে আসতাম, তখন তাকে সামনের সিটে আমার পাশে বসিয়ে নিয়ে আসতাম। আজও আসার সময় তাকে বলেছি সামনের সিটে বসতে। পাশে বসিয়েই আপনাদের কাছে নিয়ে এসেছি।" তাঁর এই মন্তব্যে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাস্যোজ্জ্বল পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

নিজের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হন ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেন, "আজ অনেক স্মৃতি মনে পড়ছে। এই ক্যাম্পাসে আমার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনেকটা সময় কেটেছে। আজ সেই দিনগুলোর কথা খুব মনে পড়ছে।"

বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জীবনের পথচলায় নানা চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতা আসবে। তবে সেসব অতিক্রম করে দৃঢ় মনোবল নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তাঁর ভাষায়, "আমাদের সবসময় সামনের দিকে তাকাতে হবে। জীবনের টানাপোড়েনে অনেক ঘাত-প্রতিঘাত আসবে। মনের ভেতর রাগ-ক্ষোভ পুষে রাখলে চলবে না। উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজকে এমন উচ্চতায় নিয়ে যেতে হবে, যাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখানকার চিকিৎসাসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষার মান সম্পর্কে জানতে পারে। তাঁর মতে, দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও সুনাম অর্জন করবে—এমন প্রত্যাশাই সবার থাকা উচিত।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে তাদের সঙ্গে সেলফিও তোলেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ এবং পুরোনো স্মৃতির আবেগঘন আবহ।

ডিএমসি ডে-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান শুধু একটি আনুষ্ঠানিক সফরেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক আন্তরিক সংযোগেরও প্রতীক হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ডা. জুবাইদা রহমানের শিক্ষাজীবনের স্মৃতি এবং শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মালয়েশিয়ায় মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিলেন আলা

মালয়েশিয়ায় মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিলেন আলা