যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগের জন্য ব্যবহৃত এইচ-১বি (H-1B) ও পার্ম (PERM) ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার, জালিয়াতি এবং শ্রমিক শোষণের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, “আমেরিকান চাকরিগুলো আমেরিকান কর্মীদেরই পাওয়া উচিত, বিদেশি প্রতারকদের নয়।”
মার্কিন শ্রম বিভাগের অধীনস্থ অফিস অব দ্য ইন্সপেক্টর জেনারেল জানিয়েছে, বিদেশি কর্মী ভিসা কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য জালিয়াতি ও সন্দেহভাজন মানবপাচারের অভিযোগ তদন্তে ইতোমধ্যে সমন জারি করা শুরু হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে একাধিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
শ্রম বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল অ্যান্থনি ডি’এসপোসিটো বলেন, এটি বিদেশি শ্রম-সংক্রান্ত জালিয়াতির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় ও আগ্রাসী তদন্তগুলোর একটি হতে যাচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হুইসেলব্লোয়ারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধান চলছে। তদন্তকারীরা প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করবেন এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ব্যবস্থা নেবেন।
শ্রম বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কিছু নিয়োগকর্তা ও শ্রম দালাল ভুয়া আবেদন, অবৈধভাবে মজুরি কর্তন এবং বিদেশি কর্মীদের শোষণের মাধ্যমে ভিসা কর্মসূচির উদ্দেশ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অথচ এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল প্রকৃত শ্রমঘাটতি পূরণে দক্ষ জনবল নিয়োগ, কোনোভাবেই অবৈধ সুবিধা আদায় নয়।
এদিকে মিলওয়াকিতে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, এইচ-১বি কর্মসূচি মূলত মেধাবী প্রযুক্তিবিদ, বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকদের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্দেশ্যে চালু হয়েছিল। তবে বর্তমানে কিছু বড় করপোরেশন ও অসাধু চক্র এই কর্মসূচির অপব্যবহার করে মার্কিন কর্মীদের মজুরি কমানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভ্যান্স আরও বলেন, প্রশাসন ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। কেউ যদি প্রতারণার মাধ্যমে এই ভিসা সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না। তার ভাষায়, “আমেরিকার চাকরি আমেরিকান কর্মীদের জন্যই, বিদেশি প্রতারকদের জন্য নয়।”
কসমিক ডেস্ক