রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ ঘোষণাবিহীন বৈদেশিক মুদ্রাসহ আটক হওয়া ফরাসি নাগরিক ডেভিড পিয়েরে আন্দ্রে ডেলনকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। এই ঘটনায় দেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাচার ও নিয়ন্ত্রণ আইন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. এহসানুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুল ইসলাম আসামিকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন। তবে আদালত তা আংশিক মঞ্জুর করে দুই দিনের রিমান্ডের অনুমতি দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন জানান, আসামির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। আদালতও প্রাথমিক তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৪ জুন সকালে ফ্রান্সের নাগরিক ডেলন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশত্যাগের চেষ্টা করেন। এ সময় তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে। পরে তাকে আটক করে শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তল্লাশি চালিয়ে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ ও লাগেজ থেকে বিভিন্ন দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মুদ্রার মধ্যে ছিল ২ লাখ ৯৮ হাজার ৫২০ ইউএই দিরহাম, ১০ হাজার ৬৬০ উজবেকিস্তানি সোম, ২ হাজার ৮০০ ইউরো, ১ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার, ৪৭০ সৌদি রিয়াল এবং ২০০ মরক্কান দিরহাম।
পুলিশ জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বহন সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সীমার বেশি অর্থ বহন করতে হলে যথাযথ ঘোষণা ও অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু ডেলন সেই নিয়ম অনুসরণ করেননি, যা আইন লঙ্ঘনের শামিল।
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, উদ্ধার হওয়া অর্থের প্রকৃত উৎস, এই অর্থ দেশে আনা বা বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্য ছিল কিনা, এবং এর সঙ্গে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত আছে কিনা—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
এছাড়া মুদ্রাগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানানো হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি একটি বড় চক্রের অংশও হতে পারে।
এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এবং বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব আইনের আওতায় দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
সবশেষে বলা যায়, বৈদেশিক মুদ্রা বহনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় আইনগত জটিলতায় পড়তে হতে পারে। এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিল, আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সময় আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলা অপরিহার্য।
কসমিক ডেস্ক