মোংলায় হামের প্রকোপ নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে ১৭ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে উপস্হিত হয়েছেন। আক্রান্ত শিশুদের বয়স ২ থেকে ৫ বছরের মধ্যে।
অধিকাংশ শিশুরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। ১৭ জনের মধ্যে ১৪ জনকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। বর্তমানে একজন শিশু এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে, এবং দুইজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।
মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহীন জানান, শিশুদের মধ্যে জ্বর, কাশি, সর্দি এবং শরীরে চাকা ওঠার মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, আক্রান্ত শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে এবং তাদের থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ডা. শাহীন সতর্ক করে বলেন, হামের ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সচেতনতা। শিশুদের জ্বর বা চাকা ওঠার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত হাসপাতালে আনা উচিত। এছাড়া আক্রান্তদের পর্যাপ্ত তরল খাবার দেওয়া এবং ঠান্ডা ও ছায়াযুক্ত স্থানে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য হামের টিকা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় হাসপাতালে বা নিকটস্থ কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে টিকা নেওয়া যেতে পারে। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে শিশুর পরিবারকে টিকাদান নিশ্চিত করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, হামের এই প্রকোপ শুরু হওয়ার পর স্বাস্থ্যকর্মীরা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত প্রচারণা চালাচ্ছেন। শিশুদের স্কুলে যাওয়ার পূর্বে সতর্কতা অবলম্বন এবং বাড়িতে হাইজিন বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি খুব সংক্রামক রোগ। এক আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শে থাকা অন্য শিশুরাও দ্রুত আক্রান্ত হতে পারে। তাই পরিবারকে রোগ শনাক্তের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
মোংলা স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, দ্রুত পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান এবং টিকাদানের মাধ্যমে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যকর্মীরা এ বিষয়ে পর্যবেক্ষণ বাড়াচ্ছেন এবং ভবিষ্যতে সংক্রমণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
কসমিক ডেস্ক