বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নরওয়ের কাছে ব্রাজিলের অপ্রত্যাশিত বিদায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জন্যও বড় একটি সতর্কবার্তা বলে মনে করছেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। মিসরের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বড় ম্যাচে সুযোগ নষ্ট করলে তার মূল্য খুব দ্রুতই দিতে হয়।
স্কালোনির মতে, নরওয়ের বিপক্ষে ব্রাজিল বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল। কিন্তু সেগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় সেলেসাওরা। তিনি মনে করেন, ম্যাচের শুরুতেই যদি ব্রাজিল গোল করতে পারত, তাহলে পুরো ম্যাচের চিত্রই ভিন্ন হতে পারত।
এ বিষয়ে আর্জেন্টিনা কোচ বলেন, ‘ব্রাজিলের খেলা কমবেশি দেখেছি। নরওয়ে ভালো দল। শুরুর দিকে স্কোর যখন ০-০ ছিল, তখন এনদ্রিক যদি ওই গোলটা পেয়ে যেত, তাহলে আজ আমরা অন্য কিছু নিয়ে কথা বলতাম। ব্রাজিল শক্ত প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছিল, এটাই আসল কথা। আমরা সতর্ক আছি; কারণ আমরাও বড় প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি।’
মিসরকে মোটেও সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন না স্কালোনি। তার মতে, আফ্রিকার দলটি সংগঠিত ফুটবল খেলে এবং রক্ষণভাগে দারুণ শৃঙ্খলা বজায় রেখে প্রতিপক্ষকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলে। তাই ম্যাচ জিততে হলে আর্জেন্টিনাকে নিজেদের সেরাটা খেলতে হবে।
শুরুর একাদশ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্কালোনি অবশ্য কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। তিনি জানান, নিজের পরিকল্পনা ঠিক করে ফেললেও এখনো খেলোয়াড়দের তা জানানো হয়নি।
স্কালোনি বলেন, ‘আমি একাদশ ঠিক করে ফেলেছি। তবে সেটি এখনো খেলোয়াড়দের জানাইনি এবং আপনাদেরও বলব না। প্রেস অফিস থেকে আমাকে জানানো হয়েছে যে আপনারা সাংবাদিকেরা কমবেশি একাদশটি অনুমান করতে পেরেছেন। ধারণাটা ওই রকমই।’
লিওনেল মেসির শারীরিক অবস্থা নিয়েও আশ্বস্ত করেছেন আর্জেন্টিনা কোচ। তার ভাষ্য, দলের অধিনায়ক পুরোপুরি ফিট আছেন এবং বয়সকে উপেক্ষা করে এখনো অসাধারণ ফিটনেস ধরে রেখেছেন।
তিনি বলেন, ‘মেসি একদম ঠিক আছে। ৩৯ বছর বয়সেও আগের ম্যাচে টানা ১২০ মিনিট খেলেও সে ক্লান্তির কথা বলেনি।’
মিসরের সবচেয়ে বড় তারকা মোহাম্মদ সালাহরও প্রশংসা করেছেন স্কালোনি। তিনি বলেন, সালাহ বিশ্বমানের ফুটবলার এবং তাকে ঘিরেই মিসরের আক্রমণভাগ পরিচালিত হয়। পাশাপাশি তিনি মনে করেন, শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেওয়ার যোগ্যতাই অর্জন করেছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
স্কালোনির ভাষায়, ‘মিসর দারুণ দল। তাদের খেলার একটি সুনির্দিষ্ট কৌশল রয়েছে। তারা রক্ষণভাগ মজবুত করে প্রতিপক্ষকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলে। আমাদের বিপক্ষেও তারা এটাই করবে। দলটি অত্যন্ত শক্ত প্রতিপক্ষ। আর সালাহ একজন বড় মাপের খেলোয়াড়। তার মুখোমুখি হওয়াটা রোমাঞ্চের। মিসর এই জায়গায় আসাটা প্রাপ্য ছিল।’
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একটি ভুলই বিদায়ের কারণ হতে পারে—ব্রাজিলের হার সেই বাস্তবতারই স্মারক বলে মনে করছেন স্কালোনি। তাই মিসরের বিপক্ষে কোনো ধরনের আত্মতুষ্টিতে না ভুগে সর্বোচ্চ মনোযোগ নিয়েই মাঠে নামতে চায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
কসমিক ডেস্ক