বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আরেকটি বড় অঘটনের জন্ম দিল নরওয়ে। আর্লিং হালান্ডের অসাধারণ জোড়া গোলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইউরোপের দেশটি। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আলো কেড়ে নেন নরওয়ের এই তারকা স্ট্রাইকার।
ম্যাচের অধিকাংশ সময়ই হালান্ডকে তুলনামূলকভাবে নিস্তেজ মনে হয়েছিল। প্রথমার্ধে মাত্র ১০ বার বল স্পর্শ করেন তিনি, যা মাঠে থাকা দুই দলের শুরুর একাদশের খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে কম। কিন্তু বড় স্ট্রাইকারদের মতো তিনিও অপেক্ষা করেছেন সঠিক মুহূর্তের জন্য।
ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে হেড থেকে গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে দেন হালান্ড। এরপর নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে ডি-বক্সের বাইরে থেকে শক্তিশালী শটে দ্বিতীয় গোল করে কার্যত ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে দেন তিনি। যোগ করা সময়ে নেইমার পেনাল্টি থেকে একটি গোল শোধ করলেও ম্যাচে ফেরার সুযোগ আর পায়নি সেলেসাওরা।
হালান্ডের এই জোড়া গোল শুধু নরওয়ের জয় নিশ্চিত করেনি, বরং বিশ্বকাপে দেশটির ফুটবল ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় রচনা করেছে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছে নরওয়ে।
ম্যাচ শেষে নরওয়ের প্রধান কোচ স্টালে সোলবাকেন এই জয়কে দেশের ফুটবল ইতিহাসের ‘সর্বশ্রেষ্ঠ দিন’ বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে হালান্ড বলেন, এটি নরওয়ের ইতিহাসের অন্যতম অবিশ্বাস্য একটি দিন।
ব্রাজিলকে হারানোর পর নরওয়ের রাজধানী অসলোসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় উৎসব। হাজারো সমর্থক রাস্তায় নেমে বিজয় উদযাপন করেন। এমনকি রাজপ্রাসাদেও ছিল উৎসবের আমেজ।
বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচটি আবারও প্রমাণ করেছে কেন আর্লিং হালান্ড বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার। পুরো ম্যাচে খুব বেশি বল না পেলেও সুযোগ তৈরি হওয়া মাত্রই তা কাজে লাগানোর অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে ব্রাজিলের জন্য এই হার বড় হতাশার। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল শেষ ষোলোর মঞ্চেই। আক্রমণে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও সেগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে কার্লো আনচেলোত্তির দল।
এখন নরওয়ের সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা। কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ইংল্যান্ড। তবে ব্রাজিলকে বিদায় করার আত্মবিশ্বাস নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে হালান্ড ও তার সতীর্থরা।
কসমিক ডেস্ক