নির্বাচনের আগে ঢাকায় ব্যস্ত সময় কাটাবেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নির্বাচনের আগে ঢাকায় ব্যস্ত সময় কাটাবেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 4, 2026 ইং
নির্বাচনের আগে ঢাকায় ব্যস্ত সময় কাটাবেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ছবির ক্যাপশন:
ad728

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে সিনেটের অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আগামী ১২ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছাবেন। মার্কিন দূতাবাসের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে তার আগমনকে কূটনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকায় পৌঁছানোর পরপরই ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ব্যস্ত সময় কাটাবেন। আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। নির্বাচন পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক সংলাপ নিয়ে তার আলোচনাগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেন। পরে ডিসেম্বরে মার্কিন সিনেট তার নিয়োগের অনুমোদন দেয়। সিনেটের অনুমোদন পাওয়ার পর ক্রিস্টেনসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে এক পোস্টে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি লেখেন, বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে সিনেটের অনুমোদন পেয়ে তিনি সম্মানিত এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সিনেট শুনানিকালে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, মানবাধিকার পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকট এবং যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সে সময় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গঠনে পাশে থাকবে এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও সম্পর্ক আরও জোরদার করতে কাজ করবে।

ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন সার্ভিসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তিনি সিনিয়র ফরেন সার্ভিসের কাউন্সেলর র্যাঙ্কের সদস্য। এর আগে তিনি ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশে তার এই পূর্ব অভিজ্ঞতা নতুন দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া তিনি ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডে বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার কর্মজীবনে আরও রয়েছে ফিলিপাইনের ম্যানিলা, এল সালভাদরের সান সালভাদর, সৌদি আরবের রিয়াদ এবং ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে কূটনৈতিক পোস্টিং। শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকেও তিনি অভিজ্ঞ; ন্যাশনাল ওয়ার কলেজ থেকে তিনি ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

পিটার হাসের পর দীর্ঘদিন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের পদ শূন্য ছিল। গত বছরের জুলাইয়ে পিটার হাস ঢাকা ছাড়ার পর থেকে ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ক্রিস্টেনসেনের আগমনের মধ্য দিয়ে এই শূন্যতা পূরণ হতে যাচ্ছে।

এদিকে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক বৈঠকগুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন দূতাবাসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় এসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রেও সক্রিয় থাকতে পারে। আসন্ন নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠানো, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। অতীতে ঢাকায় রাজনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকায় এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকের সঙ্গে পরিচিত হওয়ায় ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের এই দায়িত্ব পালন আরও কার্যকর হবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আন্দোলনের মুখে কঠোর অবস্থানে খামেনি, পিছু হটার প্রশ্নই নেই

আন্দোলনের মুখে কঠোর অবস্থানে খামেনি, পিছু হটার প্রশ্নই নেই