বঙ্গোপসাগরের দুই হাজার মিটার গভীরেও প্লাস্টিক, বাড়ছে জেলিফিশ—গভীর উদ্বেগ বিজ্ঞানীদের The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বঙ্গোপসাগরের দুই হাজার মিটার গভীরেও প্লাস্টিক, বাড়ছে জেলিফিশ—গভীর উদ্বেগ বিজ্ঞানীদের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 7, 2026 ইং
বঙ্গোপসাগরের দুই হাজার মিটার গভীরেও প্লাস্টিক, বাড়ছে জেলিফিশ—গভীর উদ্বেগ বিজ্ঞানীদের ছবির ক্যাপশন:
ad728

বঙ্গোপসাগরের প্রায় দুই হাজার মিটার গভীরতায়ও প্লাস্টিকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে—যা সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস-এর অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী। তিনি আরও জানান, গভীর সমুদ্রে জেলিফিশের অস্বাভাবিক আধিক্য দেখা যাচ্ছে, যা সামুদ্রিক ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার স্পষ্ট লক্ষণ।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে গবেষণা জাহাজ আর.ভি. ড. ফ্রিডজোফ নানসেন পরিচালিত সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেম বিষয়ক জরিপ ও গবেষণা প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

অধ্যাপক সায়েদুর রহমান জানান, ২০২৩ সালের ২১ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক মাসব্যাপী এই গবেষণা পরিচালিত হয়। এতে আটটি দেশের মোট ২৫ জন বিজ্ঞানী অংশ নেন, যাদের মধ্যে ১৩ জন ছিলেন বাংলাদেশের গবেষক। গবেষণায় নতুন করে ৬৫ প্রজাতির জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে।

তবে ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি উঠে এসেছে উদ্বেগজনক চিত্রও। অধ্যাপক সায়েদুর বলেন, ২০১৮ সালের এক গবেষণার সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, গভীর সমুদ্রে বড় আকারের মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে স্বল্প গভীর পানিতে মাছের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি ওভারফিশিংকে দায়ী করেন।

গবেষণায় জানা গেছে, বর্তমানে ২৭০ থেকে ২৮০টি বড় ফিশিং ট্রলার গভীর সমুদ্রে মাছ আহরণ করছে। এর মধ্যে প্রায় ৭০টি ট্রলার সোনার প্রযুক্তি ব্যবহার করে টার্গেটেড ফিশিং করছে, যা অত্যন্ত আগ্রাসী একটি পদ্ধতি। এতে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সঙ্গে যুক্তরা লাভবান হলেও উপকূলীয় ও স্বল্প গভীর পানিতে মাছ ধরার সঙ্গে যুক্ত জেলেরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

এ প্রসঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, এভাবে সোনারভিত্তিক টার্গেটেড ফিশিং চলতে থাকলে বঙ্গোপসাগর ভবিষ্যতে মাছশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সোনার ফিশিং নিয়ন্ত্রণে সরকার শিগগিরই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবে বলেও তিনি জানান।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে টুনা মাছের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে এবং ডিপ সি ফিশিংয়ের মাধ্যমে এ খাতে বড় সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি সুন্দরবনের নিচে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিশিং নার্সারি শনাক্ত হয়েছে, যা সংরক্ষণের জন্য সরকার ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছে।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের স্থলভাগের সমপরিমাণ জলভাগ থাকলেও এ সামুদ্রিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও সম্ভাবনা সম্পর্কে এতদিন পর্যাপ্ত ধারণা ছিল না। তিনি বলেন, “এই সম্পদকে কাজে লাগাতে হলে আরও গবেষণা, সঠিক নীতিমালা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।”

তিনি জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও মালদ্বীপের সঙ্গে যৌথ সামুদ্রিক গবেষণা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে জানানো হয়, যুক্তরাজ্যের রয়্যাল নেভির একটি আধুনিক হাইড্রোগ্রাফিক ও ওশেনোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে, যা দেশের সামুদ্রিক গবেষণা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি বাপা’র ১২ দফা পরিবেশ সুপারিশ

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি বাপা’র ১২ দফা পরিবেশ সুপারিশ