বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার ইশমা তানজিম জাতীয় দলের সর্বশেষ ক্যাম্পে জায়গা না পাওয়ার হতাশা থেকে আত্মহননের চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছেন। ঘটনার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং তিন দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকতে হয়। পরে জ্ঞান ফেরার পর হাসপাতাল থেকেই একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা ও অভিযোগ তুলে ধরেন।
ইশমা দাবি করেন, তিনি শারীরিকভাবে পুরোপুরি ফিট থাকা সত্ত্বেও ইনজুরির অজুহাত দেখিয়ে তাকে জাতীয় দলের ক্যাম্প থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পারফরম্যান্স থাকা সত্ত্বেও সুযোগ না পাওয়ার বিষয়টি তাকে মানসিকভাবে ভীষণভাবে আঘাত করেছে। তিনি বলেন, ভালো খেলার পরও যদি দলে জায়গা না মেলে, তাহলে ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও ২০২৫ সালের নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সময় একই ধরনের বঞ্চনার মুখোমুখি হয়েছিলেন। তার মতে, ধারাবাহিকভাবে এমন অভিজ্ঞতা তাকে গভীর হতাশার মধ্যে ঠেলে দেয়।
আত্মহননের চেষ্টার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইশমা বলেন, অনেকেই ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেন, কিন্তু তিনি ক্রিকেটকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন বলেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের হতাশা ও চাপ একসময় তার জন্য অসহনীয় হয়ে ওঠে।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও অভিযোগ করেন, জাতীয় দলের পরিবেশে দীর্ঘদিন ধরে র্যাগিংয়ের শিকার হয়েছেন। তার দাবি, কোচিং স্টাফ ও টিম ম্যানেজমেন্টের মধ্যে দায়িত্ব নিয়ে পরস্পরকে দোষারোপের প্রবণতা ছিল এবং নিজের ব্যাটিং বা পারফরম্যান্স নিয়ে গঠনমূলক পরামর্শের পরিবর্তে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মন্তব্য শুনতে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ধানমন্ডিতে বেড়ে ওঠা এবং জীবনযাত্রা নিয়ে তাকে বারবার কটাক্ষ করা হতো।
২৯ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডারের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয় ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এরপর ২০২৫ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয় তার। ওই আসরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২ রান এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১৪ রান করেন তিনি। সেটিই এখন পর্যন্ত তার সর্বশেষ ওয়ানডে ম্যাচ।
ইশমার অভিযোগগুলো ব্যক্তিগত বক্তব্যের ভিত্তিতে উঠে এসেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্ট বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো প্রকাশিত হয়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
যদি আপনার বা আপনার পরিচিত কারও মনে আত্মহানির চিন্তা আসে, তবে একা না থেকে পরিবারের সদস্য, বিশ্বস্ত বন্ধু বা একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো সহায়তা অনেক সংকট কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করতে পারে।
কসমিক ডেস্ক