অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদার করেছে সৌদি আরব। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ১২ হাজার ২৯২ জন অবৈধ অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে আবাসন, শ্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ২৭ হাজার ৪৪৫ জন অভিবাসীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে ২৫ হাজার ৪১২ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ৩৩ জন নারী রয়েছেন। বহিষ্কারের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১৬ হাজার ৯১২ জনকে নিজ নিজ দেশের দূতাবাস বা কূটনৈতিক মিশনে ট্রাভেল পারমিট (আউটপাস) সংগ্রহের জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ৪ হাজার ১৭৪ জনকে বিমান টিকিটের ব্যবস্থা সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্যে আরও বলা হয়েছে, ২৫ জুন থেকে ১ জুলাই পর্যন্ত পরিচালিত যৌথ অভিযানে মোট ১৫ হাজার ৫৯১ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ৭ হাজার ৭৫৯ জন আবাসন আইন, ৪ হাজার ৪৮৮ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ৩ হাজার ৩৪৪ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
এ ছাড়া একই সময়ে অবৈধভাবে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় ১ হাজার ৬২৯ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৫৩ শতাংশ ইথিওপিয়ার, ৪৬ শতাংশ ইয়েমেনের এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি অবৈধভাবে দেশ ত্যাগের চেষ্টা করার সময় আরও ৫৮ জনকে আটক করা হয়েছে।
সৌদি পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া, পরিবহন করা বা কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে গত সপ্তাহে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করে জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের সহযোগিতা করা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড, ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা এবং অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে। অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
কসমিক ডেস্ক