ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যের ভুবনেশ্বরে ধর্ষণের চেষ্টা থেকে প্রাণ বাঁচাতে সংরক্ষিত গহীন বনে পালিয়ে গিয়ে পথ হারান এক নারী। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ড্রোন, ফ্লেয়ার গান ও রকেট বাজির আলোর সংকেত ব্যবহার করে তাকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই নারী খুরদা বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি মোটরসাইকেলে লিফট নিয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, মোটরসাইকেলচালক তাকে নির্ধারিত গন্তব্যে না নিয়ে রতনপুর সংরক্ষিত বনের দিকে নিয়ে যান এবং সেখানে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করেন।
নিজেকে রক্ষা করতে ওই নারী অভিযুক্তের প্রতিরোধ করেন এবং সেখান থেকে দৌড়ে বনের গভীরে আশ্রয় নেন। তবে ঘন জঙ্গলের মধ্যে প্রবেশের পর তিনি পথ হারিয়ে ফেলেন। পরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাহায্য চান।
খবর পেয়ে এক সহকারী পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে ইনফোভ্যালি, জটানি ও খন্দগিরি থানার প্রায় ৫০ সদস্যের একটি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কিন্তু ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনে জিপিএস লোকেশন চালু না থাকায় তার সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছিল না।
এ পরিস্থিতিতে উদ্ধারকারীরা প্রযুক্তির সহায়তা নেন। ড্রোন উড়িয়ে আকাশ থেকে অনুসন্ধান চালানোর পাশাপাশি ফ্লেয়ার গান ও রকেট বাজির আলোর সংকেত ব্যবহার করা হয়, যাতে বনভূমির ভেতর থেকে নারীটি উদ্ধারকারী দলের অবস্থান বুঝতে পারেন। শেষ পর্যন্ত সেই আলোর সংকেত অনুসরণ করেই তিনি নিরাপদে পুলিশের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হন।
পুলিশ জানিয়েছে, শুরুতে ওই নারী মামলা করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। পরে আইনগত প্রক্রিয়া ও তার অধিকার সম্পর্কে বোঝানোর পর তিনি অভিযোগ দায়ের করতে সম্মত হন।
ঘটনার পর ইনফোভ্যালি থানায় ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অপরাধে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করেছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কসমিক ডেস্ক