‘থামাতে হলে আমাকে মেরেই ফেলুন’, মমতার কড়া হুঁশিয়ারি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

‘থামাতে হলে আমাকে মেরেই ফেলুন’, মমতার কড়া হুঁশিয়ারি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 5, 2026 ইং
‘থামাতে হলে আমাকে মেরেই ফেলুন’, মমতার কড়া হুঁশিয়ারি ছবির ক্যাপশন:

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে। নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর থেকেই দলটির ভেতরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা এখন স্পষ্ট বিভাজনে রূপ নিয়েছে। দলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিধায়ক আলাদা গোষ্ঠী গঠন করায় কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে তৃণমূল।

এই পরিস্থিতিতে দলের শীর্ষ নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। শনিবার (৪ জুলাই) এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “দলের প্রতীক বা সাইন বোর্ড কোথাও যাবে না। যারা আমাকে থামাতে চান, তাদের বলছি—আমাকে মেরেই ফেলুন।” তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দলের ভাঙনের এই সংকট আরও ঘনীভূত হয় যখন পশ্চিমবঙ্গ শাখার প্রধান চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পদত্যাগ করে বিদ্রোহী গোষ্ঠীতে যোগ দেন। এতে দলীয় কাঠামোয় বড় ধরনের ধাক্কা লাগে এবং নেতৃত্বের ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিদ্রোহীদের উদ্দেশে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি নিজ হাতে তাদের মনোনয়ন অনুমোদন করেছিলেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তারা দলের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, “সবকিছুর একটা সীমা থাকা উচিত।”

তিনি আরও দাবি করেন, বিদ্রোহীরা মূলত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের চাপে এই অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে বিজেপির প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি কোনোভাবেই গেরুয়া শিবিরের সামনে মাথা নত করবেন না।

এদিকে দলীয় কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মমতা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দলের সম্পত্তি কেউ জোর করে দখল করতে পারবে না। বিদ্রোহীরা যে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ করেছে, সেটি ২০২৭ সাল পর্যন্ত লিজ নেওয়া এবং তা তৃণমূলের সম্পত্তি বলেও তিনি দাবি করেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের জাতীয় ও রাজ্য পর্যায়ের সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার বাসভবনের অফিসকেই আপাতত দলের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্বকেই তুলে ধরে।

তৃণমূল কংগ্রেসের এই অভ্যন্তরীণ সংকট এখন আইনি পর্যায়ে গড়িয়েছে। দলীয় প্রতীক ‘জোড়াফুল’-এর মালিকানা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে উভয় পক্ষ নিজেদের দাবি তুলে ধরছে। কমিশন উভয় পক্ষকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কঠোর অবস্থান দলকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করতে সহায়ক হতে পারে, আবার উল্টোভাবে বিভাজন আরও গভীর করতেও পারে। রাজনৈতিকভাবে এই ‘ডু অর ডাই’ অবস্থান কতটা কার্যকর হয়, তা সময়ই বলে দেবে।

সব মিলিয়ে, তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। দলীয় সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব এখন বড় পরীক্ষার মুখে রয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
পাঁচ দিনের সরকারি সফরে চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়ায় গেলেন সেনা

পাঁচ দিনের সরকারি সফরে চেক রিপাবলিক ও স্লোভাকিয়ায় গেলেন সেনা