ঈদযাত্রায় সড়কে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত ও ১২৯৪ জন আহত The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ঈদযাত্রায় সড়কে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত ও ১২৯৪ জন আহত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 7, 2026 ইং
ঈদযাত্রায় সড়কে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত ও ১২৯৪ জন আহত ছবির ক্যাপশন: ঈদযাত্রায় সড়কে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত ও ১২৯৪ জন আহত

ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশজুড়ে যাতায়াতের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্ঘটনার সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এবারের ঈদযাত্রায় সারা দেশে সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে মোট ৪৪২টি দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন নিহত এবং ১৩৪০ জন আহত হয়েছেন।

রবিবার (৭ জুন) সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি জানান, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ২১ মে থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা ৪ জুন পর্যন্ত এই দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শুধু সড়কপথেই ৩৯৪টি দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত এবং ১২৯৪ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৩১টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হন। নৌপথে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং ১৬ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার মধ্যে সড়কপথই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সড়ক দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে বড় অংশই সংঘটিত হয়েছে জাতীয় মহাসড়কে—প্রায় ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ। আঞ্চলিক মহাসড়কে ৩০ দশমিক ৭১ শতাংশ এবং ফিডার রোডে ১৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৪৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ ঘটনা মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে ঘটেছে। ২৯ দশমিক ১৮ শতাংশ ক্ষেত্রে গাড়িচাপা বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা, ১৭ দশমিক ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়া, ১ দশমিক ৫২ শতাংশ রেল-যানবাহন সংঘর্ষ এবং ৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ অন্যান্য অজ্ঞাত কারণে দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।

যাত্রীকল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এবারের ঈদে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। মোট ১৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫৯ জন নিহত এবং ১৮০ জন আহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় ৩৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

এছাড়া অন্যান্য যানবাহনের মধ্যে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ, বাস ১৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ, ব্যাটারিচালিত রিকশা ১২ দশমিক ৩৪ শতাংশ, কার ও মাইক্রো ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ, নছিমন-করিমন ৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল।

সংবাদ সম্মেলনে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর ঈদে রাজধানী থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করে। এই বিশাল যাত্রাকে নিরাপদ করতে সরকারের ১০–১২ দিনের প্রস্তুতি যথেষ্ট নয়। বরং স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ঈদযাত্রায় যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ, অদক্ষ চালক, বেপরোয়া গতি এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে।

গত বছরের ঈদুল আজহার তুলনায় এবার দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ঈদে যেখানে ৩৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯০ জন নিহত হয়েছিল, সেখানে এবার তা বেড়ে ৪০২ জনে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঈদ মৌসুমে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা, কঠোর ট্রাফিক আইন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এই খাতে দুর্ঘটনা কমানো কঠিন হবে।

সব মিলিয়ে ঈদযাত্রায় এবারের দুর্ঘটনার চিত্র আবারও দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে এনেছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের নীতিগত উদ্যোগের দাবি রাখে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সুস্থ মাতৃত্বের জন্য গর্ভাবস্থায় যেসব খাবার খাবেন না

সুস্থ মাতৃত্বের জন্য গর্ভাবস্থায় যেসব খাবার খাবেন না