জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কোনোভাবেই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে পারে না। রংপুর নগরীর সেনপাড়ায় নিজ বাসভবন ‘দ্য স্কাইভিউ’-তে আয়োজিত এক বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জি এম কাদের অভিযোগ করেন, বাস্তবে এই নির্বাচন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর দাবি, এনসিপিকে কার্যত সরকারি দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর একটি কার্যকর রাজনৈতিক জোট গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে নির্বাচনী মাঠে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হচ্ছে না।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত কোনো নির্বাচনই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। নির্বাচন ব্যবস্থায় অনিয়ম, কারচুপি ও পক্ষপাতের কারণেই একসময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। অথচ সেই অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা উপেক্ষা করেই আবারও নির্বাচন পরিচালিত হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জি এম কাদের আরও বলেন, বর্তমান নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাসীনদের সরাসরি ও পরোক্ষ প্রভাব স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আচরণে নিরপেক্ষতার অভাব রয়েছে। এর ফলে নির্বাচন নিয়ে জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গণমাধ্যমে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, তাদের দলের বক্তব্য ও কর্মসূচি যথাযথভাবে প্রচার করা হচ্ছে না। বিপরীতে নির্দিষ্ট কিছু দল ও জোটকে অতিরিক্ত সুযোগ ও সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক প্রটোকলের অপব্যবহার এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষপাতমূলক ভূমিকার কারণে জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির মিছিল-মিটিংয়ে বাধা দেওয়া হচ্ছে, বিভিন্ন স্থানে হল ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না, এমনকি স্বাভাবিক নির্বাচনী প্রচারণাও নির্বিঘ্নে করতে দেওয়া হচ্ছে না। এসব প্রতিবন্ধকতা গণতন্ত্রের জন্য অশুভ সংকেত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনী সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে জি এম কাদের জানান, নীলফামারী, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের ওপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা আহত হয়েছেন এবং নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জাতীয় পার্টির একাধিক প্রার্থী এখনো কারাবন্দি রয়েছেন, যা নির্বাচনের পরিবেশকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে। এসব বিষয় নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু করার ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে জি এম কাদের বলেন, পরিবেশ যে তাদের জন্য অনুকূল নয়, তা তারা জানেন। তবে জনগণের সামনে অনিয়ম, বৈষম্য ও অন্যায়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতেই তারা নির্বাচনে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণ সত্য উপলব্ধি করবে এবং ভোটের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করবে। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে জাতীয় পার্টি রাজপথে ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় থাকবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি নির্বাচন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা কামনা করেন।