অনলাইন জুয়া রোধে কঠোর আইন পাস, সর্বোচ্চ ১০ বছরের সাজা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

অনলাইন জুয়া রোধে কঠোর আইন পাস, সর্বোচ্চ ১০ বছরের সাজা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 30, 2026 ইং
অনলাইন জুয়া রোধে কঠোর আইন পাস, সর্বোচ্চ ১০ বছরের সাজা ছবির ক্যাপশন:

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়ার বিস্তার রোধে জাতীয় সংসদে নতুন ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন-২০২৬’ সর্বসম্মতিতে পাস হয়েছে। নতুন আইনে অনলাইন জুয়া-সংক্রান্ত বিভিন্ন অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি পাসের জন্য উপস্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। একই অধিবেশনে ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন-২০২৬’-ও পাস হয়, যার মাধ্যমে বিদ্যমান আইনের একটি ধারা বাতিল করে জুয়া-সংক্রান্ত অপরাধকে নতুন আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রায় ১৫৯ বছর আগে প্রণীত ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট-১৮৬৭’ বাতিল করা হয়েছে। আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিনির্ভর জুয়ার বিস্তার ঘটলেও পুরোনো আইন এসব অপরাধ মোকাবিলায় কার্যকর ছিল না।

সরকারের মতে, অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট এবং অন্যান্য অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থার অপব্যবহারের মাধ্যমে সংঘটিত জুয়া, অর্থপাচার ও প্রতারণা দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বিশেষ করে তরুণ সমাজের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এ বাস্তবতায় আরও সুস্পষ্ট ও যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

নতুন আইনে অনলাইন জুয়া, দূরবর্তী জুয়া, অনলাইন বেটিং, স্পোর্টস বেটিং, লাইভ বেটিং, ক্যাসিনো বেটিং, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, ঘোস্ট সিম এবং ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট বা ডিজিটাল ওয়ালেট-এর পৃথক সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা না থাকে।

আইন অনুযায়ী, জুয়ার উদ্দেশ্যে অর্থ জমা, উত্তোলন বা স্থানান্তর, বিদেশি অনলাইন জুয়া প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি বা এজেন্ট হিসেবে কাজ করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়ার পেজ, গ্রুপ বা চ্যানেল পরিচালনা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এছাড়া জুয়ার সরঞ্জাম বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ, জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার, প্রচারণা কিংবা স্পনসরশিপের ক্ষেত্রেও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

আইনের আওতায় সংঘটিত অপরাধগুলোকে আমলযোগ্যঅজামিনযোগ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব মামলার বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনাল অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্টে পরিচালিত হবে।

একই দিনে পাস হওয়া সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন-২০২৬-এর মাধ্যমে বিদ্যমান সাইবার সুরক্ষা আইনের ২০ ধারা বাতিল করা হয়েছে। সংশোধনের উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছে, জুয়া-সংক্রান্ত অপরাধের জন্য পৃথক ও বিশেষায়িত আইন কার্যকর হওয়ায় একই অপরাধের ক্ষেত্রে একাধিক আইনের প্রয়োগজনিত জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে। সংশোধনী অনুযায়ী নতুন পরিবর্তন অবিলম্বে কার্যকর হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন আইনের মাধ্যমে ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত জুয়া ও বেটিং কার্যক্রম প্রতিরোধে একটি সমন্বিত আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হলো। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম আরও কার্যকর হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্ববাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম, নজরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচ

বিশ্ববাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম, নজরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচ