রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবাসিক এলাকা ‘গ্রিন সিটি’ প্রকল্পে বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের সরঞ্জাম ও জেনারেটর কেনাকাটায় বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের তথ্য প্রকাশ করেছে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) কার্যালয়। নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি নির্ধারিত দরের তুলনায় প্রায় আট গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করে সরকারের প্রায় ১৮৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে।
নিরীক্ষা অনুযায়ী, ১১টি আবাসিক ভবনের জন্য বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের সরঞ্জাম ও জেনারেটরের সরকারি মূল্য ছিল প্রায় ২৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। অথচ একই সরঞ্জাম কেনার জন্য ঠিকাদারদের পরিশোধ করা হয়েছে প্রায় ২১৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকল্পটি বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের আওতায় বাস্তবায়ন করে গণপূর্ত অধিদপ্তর। ২০১৭ সালে পাবনা গণপূর্ত বিভাগের মাধ্যমে ই-জিপি পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। নিরীক্ষা বিভাগ বলছে, দরপত্র মূল্যায়ন, দাপ্তরিক প্রাক্কলন প্রস্তুত, কার্যাদেশ প্রদান, বিল অনুমোদন ও অর্থ পরিশোধ—প্রায় প্রতিটি ধাপেই অনিয়মের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঠিকাদাররা বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রের সরঞ্জাম ও জেনারেটরের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দেখালেও অন্যান্য কিছু পণ্যের দাম কম দেখানো হয়। ফলে মোট দর দাপ্তরিক প্রাক্কলনের কাছাকাছি থাকলেও নির্দিষ্ট যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে কয়েক গুণ বেশি মূল্য নির্ধারণ করা হয়। একটি ভবনের হিসাবেই সরকারি মূল্য প্রায় ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকার সরঞ্জামের জন্য বিল করা হয়েছে প্রায় ১৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
নথি অনুযায়ী, তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে মোট প্রায় ২১৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। নিরীক্ষা বিভাগ সংশ্লিষ্ট দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য, বিল অনুমোদনকারী এবং অর্থ পরিশোধকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি আপত্তিকৃত প্রায় ১৮৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার সুপারিশও করা হয়েছে।
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান একে ‘মেগা দুর্নীতি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মেগা প্রকল্পে সুশাসন নিশ্চিত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতেও জাতীয় অর্থের অপচয় ও দুর্নীতি রোধ করা কঠিন হবে।
কসমিক ডেস্ক