সিসাকে সীমান্ত প্রদেশে মঙ্গলবার ফের সীমান্ত উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সেনাবাহিনীর মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে। থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই ঘটনায় তাদের কোনো সদস্য আহত হয়নি। তবে তারা প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে ডিসেম্বরের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে।
থাই সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সিসাকেতে মঙ্গলবার সকালে থাই টহলদলের কাছে কম্বোডিয়ার বাহিনী একটি ৪০ মিলিমিটার গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। জবাবে থাই বাহিনী আত্মরক্ষার্থে এবং সংঘর্ষের নিয়ম অনুযায়ী এম৭৯ গ্রেনেড লঞ্চার থেকে পাল্টা নিক্ষেপ পরিচালনা করে।”
থাই সেনাবাহিনীর মুখপাত্র উইনতাই সুবারি বলেন, “কম্বোডিয়ার পদক্ষেপ ডিসেম্বরের শেষ দিকে তিন সপ্তাহ ধরে চলা সীমান্ত সংঘর্ষের পরগামী যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কম্বোডিয়ার সামরিক রোটেশনের কারণে নতুন সদস্যরা যথাযথ নিয়ম ও কমান্ড না জানায় এ ঘটনা ঘটেছে।”
এই গোলাগুলির ঘটনা দুই দেশের দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধের প্রেক্ষাপটে এসেছে। ফরাসি ঔপনিবেশিক আমলে নির্ধারিত সীমান্ত প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ, যা দীর্ঘ সময় ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে বিভেদ ও সংঘর্ষের কারণ হিসেবে কাজ করছে।
গত বছর এই সীমান্ত বিরোধ কয়েক দফা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সেই সংঘর্ষে সেনা এবং বেসামরিকসহ কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয় এবং জুলাই ও ডিসেম্বরে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। এর ফলে উভয় দেশের সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও ঝুঁকিপূর্ণ রয়ে গেছে।
কম্বোডিয়া এখন পর্যন্ত এই ঘটনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। থাইল্যান্ডের সেনাবাহিনী সীমান্তে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে এবং নতুন সংঘর্ষ এড়াতে নিয়মিত তল্লাশি চালাচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় নতুন রোটেশনের কারণে কম্বোডিয়ান সেনাদের অভিজ্ঞতার অভাবও এই উত্তেজনার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই দেশের সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে নিয়মিত কমিউনিকেশন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ অপরিহার্য। এছাড়া সীমান্ত প্রায়শই বাণিজ্য ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা নির্ভরতার কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায়, সামরিক সংঘর্ষের প্রভাব সরাসরি সেখানকার মানুষের জীবনযাত্রায় প্রতিফলিত হয়।
সংক্ষেপে, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্তে মঙ্গলবারের গোলাগুলি পূর্ববর্তী সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে এসেছে। থাই সেনাবাহিনী কম্বোডিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে, কিন্তু কোনো থাই সদস্য আহত হয়নি। দুই দেশের ইতিহাসবাহী সীমান্ত বিরোধ এবং সামরিক রোটেশনের কারণে সংঘর্ষের সম্ভাবনা এখনও বিদ্যমান। সীমান্তে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উভয় দেশের জন্য কূটনৈতিক আলোচনা ও নিয়মিত তদারকি জরুরি।
কসমিক ডেস্ক