চীনের সাবেক শীর্ষ ধনকুবের এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ব্যবসায়ী গুও ওয়েনগুইকে আর্থিক জালিয়াতির দায়ে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত। সোমবার (২৯ জুন) ঘোষিত এই রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, নিজেকে চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির (সিসিপি) কট্টর সমালোচক হিসেবে উপস্থাপন করে তিনি বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেন এবং সেই অর্থ ব্যক্তিগত বিলাসী জীবনযাপনে ব্যয় করেন।
আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে গুও ওয়েনগুই তার নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মিডিয়া কোম্পানির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগে উৎসাহিত করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সংগৃহীত অর্থ দিয়ে তিনি নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কের পাশে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট, ব্যক্তিগত ইয়ট, রেস কার এবং দামী ডিজাইনার পোশাক কেনেন।
ম্যানহাটনের ফেডারেল বিচারক অ্যানালিসা টরেস রায় ঘোষণার সময় বলেন, গুও চীনে গণতন্ত্রপন্থী মানুষের আবেগ ও বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেছেন। আদালতে ভুক্তভোগীদের পাঠানো একাধিক চিঠি তুলে ধরা হয়, যেখানে অনেকে তাদের সারাজীবনের সঞ্চয় হারানোর পাশাপাশি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং মানসিক কষ্টের কথা উল্লেখ করেছেন।
রায়ের অংশ হিসেবে আদালত গুও ওয়েনগুইয়ের ৮৮৯ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দিয়েছেন। সাত সপ্তাহব্যাপী বিচার শেষে তার বিরুদ্ধে আনা ১২টি ফৌজদারি অভিযোগের মধ্যে ৯টিতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
সাজা ঘোষণার আগে নিজের বক্তব্যে গুও দাবি করেন, তিনি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। তার আইনজীবীরাও আদালতে যুক্তি দেন যে, তিনি রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার এবং চীনে নির্যাতনের মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। অন্যদিকে, প্রসিকিউটররা অভিযোগ করেন, আদালতে হাজির হওয়ার আগে তিনি অসুস্থতার ভান করেছিলেন। তবে গুও এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, কারাগারে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে এবং আদালতে আনার পথে তিনি বারবার বমি করেছেন।
রায় ঘোষণার পর আদালতের বাইরে অপেক্ষমাণ তার সমর্থকেরা করতালির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান। বহুল আলোচিত এই মামলার রায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক