বিশ্বকাপ ফাইনালকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, তখন আলোচনায় উঠে এসেছে একাধিক প্রতীকী ‘ভবিষ্যদ্বাণী’। পেরুর আধ্যাত্মিক শামন, ব্রাজিলের একটি জাগুয়ার এবং থাইল্যান্ডের একটি সিংহ—তিন পক্ষের ইঙ্গিতও এক নয়। কেউ বলছে আর্জেন্টিনা শিরোপা ধরে রাখবে, আবার কেউ দেখছে স্পেনের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা।
যদিও এসব পূর্বাভাসের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, তবুও বিশ্বকাপের আবহে এগুলো ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্বকাপ চলাকালে নানা ধরনের ভবিষ্যদ্বাণী আলোচনায় এসেছে। ঘানার তান্ত্রিক, জার্মানির এক অর্থনীতিবিদ কিংবা জনপ্রিয় অ্যানিমেটেড সিরিজ ‘দ্য সিম্পসনস’—অনেকের পূর্বাভাসই শেষ পর্যন্ত বাস্তবতার সঙ্গে মেলেনি। তারপরও ফাইনালকে ঘিরে এই প্রতীকী পূর্বাভাসের ধারা অব্যাহত রয়েছে।
আর্জেন্টিনার পক্ষেই পেরুর শামন
পেরুর একদল আধ্যাত্মিক শামনের দাবি, স্পেন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা যাবে আর্জেন্টিনার হাতেই। তাদের বিশ্বাস, লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দলটি চতুর্থবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে জার্সিতে আরও একটি তারকা যোগ করবে।
শামন হুয়ান দে দিয়োস গার্সিয়া বলেন, আধ্যাত্মিক শক্তির মাধ্যমে তারা এমন ইঙ্গিত পেয়েছেন যে, আর্জেন্টিনাই শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিতবে। তার মতে, ম্যাচটি কঠিন হবে, তবে ভাগ্য আর্জেন্টিনার পক্ষেই থাকবে।
জাগুয়ারও বেছে নিল আর্জেন্টিনা
ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরোর বায়ো পার্কে থাকা ‘পটি’ নামের একটি জাগুয়ারের সামনে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের পতাকাসংবলিত দুটি বক্স রাখা হয়। কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণের পর প্রাণীটি আর্জেন্টিনার পতাকাবাহী বক্সটি বেছে নেয়।
পার্ক কর্তৃপক্ষের মতে, এটি একটি প্রতীকী আয়োজন হলেও জাগুয়ারটির ‘পছন্দ’ আর্জেন্টিনাকেই সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ইঙ্গিত করছে।
থাইল্যান্ডের সিংহের পছন্দ স্পেন
অন্যদিকে থাইল্যান্ডের খন কায়েন চিড়িয়াখানার ‘বয়’ নামের একটি সিংহ ভিন্ন বার্তা দিয়েছে। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের পতাকার নিচে ঝুলিয়ে রাখা শূকরের মাংস থেকে তিন দফা বাছাইয়ের মধ্যে দুইবারই স্পেনের পতাকার নিচের খাবারটি বেছে নেয় সিংহটি।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের প্রতীকী নিয়ম অনুযায়ী এটি স্পেনের সম্ভাব্য শিরোপা জয়ের ইঙ্গিত।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, সেমিফাইনালের আগে ‘বয়’ আর্জেন্টিনা ও স্পেন—দুই দলকেই ফাইনালে ওঠার প্রতীকী পূর্বাভাস দিয়েছিল, যা পরে বাস্তবেও মিলেছে। তবে তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এসব আয়োজনের উদ্দেশ্য কোনোভাবেই ম্যাচের ফল নির্ধারণ বা ভবিষ্যদ্বাণী করা নয়।
চিড়িয়াখানার পরিচালক থিপাওয়াদি কিত্তিখুন বলেন, এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য প্রাণীদের স্বাভাবিক আচরণ, চলাফেরা ও খাবার সংগ্রহের প্রবণতা উৎসাহিত করা এবং তাদের মানসিক-শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের প্রাণীকল্যাণ সম্পর্কে সচেতন করাও এই উদ্যোগের অংশ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি কোনোভাবেই জুয়া বা বাজি ধরাকে উৎসাহিত করার জন্য নয়।
নতুন নয় এমন আয়োজন
প্রাণীদের মাধ্যমে ফুটবল ম্যাচের ফল অনুমানের বিষয়টি নতুন নয়। ২০১০ বিশ্বকাপে জার্মানির বিখ্যাত অক্টোপাস ‘পল’ একের পর এক ম্যাচের ফল মিলিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছিল। এরপর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে হাতি, গরিলা, জেব্রা, হাঙরসহ নানা প্রাণীকে দিয়ে এমন প্রতীকী আয়োজন করা হয়েছে।
চলতি বিশ্বকাপেও ব্রাজিলের ‘রিতিনিয়া’ নামের একটি হাঙর এবং মেক্সিকোর কয়েকটি প্রাণী উদ্যান একই ধরনের আয়োজন করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এসব পূর্বাভাসের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই; এগুলো মূলত দর্শক ও ফুটবলপ্রেমীদের বিনোদনের জন্য আয়োজন করা হয়।
সবশেষে, শামন, জাগুয়ার কিংবা সিংহ যাই বলুক না কেন, বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণ হবে মাঠের ৯০ মিনিটের (বা প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সময় ও টাইব্রেকারের) লড়াইয়েই। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের সেই বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালেই মিলবে প্রকৃত উত্তর।
কসমিক ডেস্ক