বাংলাদেশি ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় এবার কড়া অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে আইপিএলের সব খেলা ও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে দেশের সংশ্লিষ্ট সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়। চিঠিতে বলা হয়, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে আগামী ২৬ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া আইপিএলে বাংলাদেশের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সরকারের নজরে এসেছে।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্তের কোনো যৌক্তিক কারণ জানা যায়নি। এমন একটি সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণকে ব্যথিত, মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এ প্রেক্ষাপটে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইপিএলের সব খেলা ও অনুষ্ঠান প্রচার বা সম্প্রচার বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের এই সিদ্ধান্ত আসতে পারে—এমন ধারণা আগেই করা হচ্ছিল। কারণ, মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টাকে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের উদ্যোগ নিতে অনুরোধ করেছিলেন।
এ বিষয়ে রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছিলেন, আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের ক্ষেত্রে আইনি ভিত্তি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেছিলেন, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে নীরব থাকার সুযোগ নেই এবং তাকে কোনো না কোনো সিদ্ধান্ত নিতেই হবে।
তথ্য উপদেষ্টার ওই বক্তব্যের একদিন পরই সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় মন্ত্রণালয়।
উল্লেখ্য, এবারের আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে মোস্তাফিজুর রহমানের খেলার কথা ছিল। তবে গত ৩ জানুয়ারি বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কেকেআর কর্তৃপক্ষ মোস্তাফিজকে দল থেকে বাদ দেয়। এই সিদ্ধান্তের পরপরই বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার জেরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং আইসিসিকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়।
মোস্তাফিজ ইস্যুকে কেন্দ্র করে ক্রীড়াঙ্গনের বাইরে কূটনৈতিক ও সম্প্রচার–সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক