উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁও ও এর আশপাশের এলাকায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটে এই ভূমিকম্প ঘটে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৪, যা তুলনামূলকভাবে দুর্বল হিসেবে বিবেচিত হয়।
আন্তর্জাতিক অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারি জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ঠাকুরগাঁও জেলা সদর থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার পূর্বে। তবে ভূমিকম্পটির গভীরতা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এটি একটি অগভীর ভূমিকম্প ছিল, যার ফলে ব্যাপকভাবে কম্পন অনুভূত হয়নি।
ভলকানো ডিসকভারির তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ মানুষ এই ভূমিকম্প অনুভব করতে পারেননি। তবে স্থানীয় সূত্র জানায়, হালকা কম্পনের কারণে ঠাকুরগাঁওয়ের কিছু এলাকায় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিশেষ করে যারা ঘরের ভেতরে অবস্থান করছিলেন, তারা মুহূর্তের জন্য কাঁপুনি অনুভব করেন বলে জানিয়েছেন।
এখন পর্যন্ত এই ভূমিকম্পে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু হয়নি। তবুও যেকোনো ধরনের ভূমিকম্প পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থান করায় মাঝেমধ্যেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর আগে চলতি মাসের ৫ জানুয়ারি সিলেট ও আশপাশের এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। ওইদিন ভোর আনুমানিক ৪টা ৪৭ মিনিটের দিকে কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী কম্পন অনুভূত হয় বলে জানান স্থানীয়রা।
সিলেট অঞ্চলের ওই ভূমিকম্পের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ভূকম্পন অনুভব করার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। যদিও সেসময়ও কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মাঝে মাঝে এ ধরনের অগভীর ভূমিকম্প ঘটতে পারে। তাই ভূমিকম্প বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।
বর্তমান ভূমিকম্পটি মৃদু হওয়ায় বড় কোনো প্রভাব না পড়লেও, ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি এড়াতে প্রস্তুতি ও সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক