কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলা থেকে বদলি হয়ে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করতে এসে তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুজন সাহা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি যোগদান না করেই কর্মস্থল ত্যাগ করেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদান করতে গেলে ছাত্র-জনতা, হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের তীব্র আপত্তির মুখে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে উত্তেজনা বাড়লে পুলিশের মধ্যস্থতায় তিনি হাসপাতাল এলাকা ছাড়েন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ডা. সুজন সাহার বিরুদ্ধে তার আগের কর্মস্থল নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং সাবেক কর্মস্থল কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত স্টাফদের সঙ্গে অসদাচরণ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিবচরে স্থানীয় সাধারণ মানুষ টানা তিন দিন ধরে মানববন্ধন করে তার যোগদানের বিরোধিতা করে আসছিলেন। পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীরাও তার যোগদানে আপত্তি জানান।
আন্দোলনকারীরা আরও দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডা. সুজন সাহার ফ্যাসিস্ট দোসর হিসেবে সংশ্লিষ্টতার কিছু তথ্য ও ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। তারা স্পষ্টভাবে জানান, কোনো অবস্থাতেই তাকে শিবচরে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হবে না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডা. সুজন সাহা একাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় হাসপাতালের ভেতরে যোগদান ঠেকাতে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, শিবচর শাখার সভাপতি হাফেজ জাফর আহমাদ অভিযোগ করে বলেন, ডা. সুজন সাহা তার সাবেক কর্মস্থলে নানা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি মোটরসাইকেল বহর নিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করে স্টাফদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। যোগদানের প্রথম দিনেই এমন আচরণ ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে।
শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্য শামিম আহসান চৌধুরী বলেন, ডা. সুজন সাহার বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণ ও স্টাফদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ রয়েছে। তিনি যেভাবে হাসপাতালে প্রবেশ করেছেন, তা দায়িত্বশীল কর্মকর্তার আচরণের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. সুজন সাহা বলেন, সরকারি আদেশ অনুযায়ী তিনি স্বাভাবিক নিয়মেই কর্মস্থলে যোগদান করতে এসেছিলেন। তবে কেন এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো, তা তার বোধগম্য নয়। শিবচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কারও সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বা পেশাগত কোনো বিরোধ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।