চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাইফেরত দুই যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে বিপুল পরিমাণ সিগারেট ও মোবাইল ফোন জব্দ করেছে কাস্টমস ও গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ দল। জব্দকৃত সিগারেটের বাজারমূল্য প্রায় ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার রাত সোয়া ১০টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে আবুধাবি থেকে চট্টগ্রামে আসেন মোহাম্মদ আরাফাত ও মোহাম্মদ রায়হান নামে দুই যাত্রী। অবতরণের পর তারা বিমানবন্দরের ব্যাগেজ হলে পৌঁছালে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে এনএসআই চট্টগ্রাম, বিমানবন্দর কাস্টমস শাখা এবং কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স যৌথভাবে তাদের ওপর নজরদারি শুরু করে।
পরবর্তীতে ব্যাগেজ তল্লাশি চালিয়ে ৬৩০ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। পাশাপাশি পাঁচটি স্মার্টফোনও জব্দ করা হয়। এর মধ্যে একটি আইফোন এবং চারটি স্যামসাং ব্র্যান্ডের ফোন রয়েছে।
বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জব্দকৃত সব পণ্য ডিএম (ডিটেইনড ম্যানিফেস্ট) পদ্ধতিতে কাস্টমস হাউসের হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসারে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এই ঘটনায় দুই যাত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার না করে বিমানবন্দর কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স ও কাস্টমস শাখা মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে এনএসআই, কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিয়মিত নজরদারি জোরদার করেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ফেরত যাত্রীদের মাধ্যমে অবৈধ সিগারেট, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক পণ্য আনার প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমদানি নিষিদ্ধ বা শুল্ক ফাঁকি দেওয়া পণ্যের প্রবেশ রোধে বিমানবন্দরে গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে সন্দেহভাজন যাত্রীদের ওপর বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অবৈধ পণ্যের চালান রাষ্ট্রীয় রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি বাজারে অনিয়ন্ত্রিত সরবরাহ তৈরি করে। ফলে সরকারের কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত অভিযান এ ধরনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ ঘটনায় বিমানবন্দরে আবারও নিরাপত্তা ও কাস্টমস ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে প্রযুক্তিগত স্ক্যানিং এবং গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে।
কসমিক ডেস্ক