পঞ্চগড় সদর উপজেলায় ‘গুপ্তধন’ ভেবে শ্রমিকরা একটি পরিত্যক্ত মর্টারশেল তুলে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরে বিষয়টি শনাক্ত হলে পুলিশ সেটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
বুধবার (১৭ জুন) রাত পৌনে ১২টার দিকে সদর উপজেলার সাতমেড়া ইউনিয়নের ঝিটকিখুড়া এলাকার একটি পাকা রাস্তার পাশে মর্টারশেলটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঝিটকিখুড়া এলাকার কয়েকজন শ্রমিক পাশের চিলকা নদীতে বালু ও পাথর উত্তোলনের কাজ করছিলেন। কাজের সময় তারা একটি পরিত্যক্ত মর্টারশেল দেখতে পান।
শ্রমিকরা প্রথমে এটিকে মূল্যবান কিছু বা ‘গুপ্তধন’ ভেবে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে সেটি পরিষ্কার করার পর তারা বুঝতে পারেন, এটি কোনো মূল্যবান বস্তু নয়, বরং পুরোনো যুদ্ধকালীন একটি মর্টারশেল। আতঙ্কিত হয়ে তারা সেটি আবার রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যান।
বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং এলাকায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়। পরে খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মর্টারশেলটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানান, ঝিটকিখুড়া এলাকার আনোয়ার হোসেন (২৮), ফেরদৌস (২৪), মোমিনুল ইসলাম (৩০)সহ কয়েকজন শ্রমিক চিলকা নদী থেকে বালু ও পাথর উত্তোলনের সময় মর্টারশেলটি পান। তারা প্রথমে এটিকে গুপ্তধন মনে করে নিয়ে গেলেও পরে বুঝতে পারেন এটি একটি বিপজ্জনক যুদ্ধাস্ত্র।
তিনি আরও জানান, পরে তারা মর্টারশেলটি রাস্তার পাশে রেখে দেয় এবং পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ দ্রুত গিয়ে সেটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ের একটি পরিত্যক্ত মর্টারশেল।
পুলিশ জানিয়েছে, মর্টারশেলটি নিষ্ক্রিয় করতে রংপুর বোমা ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এসে নিরাপদভাবে এটি নিষ্ক্রিয় করবে।
এ ধরনের পুরোনো যুদ্ধাস্ত্র কখনো কখনো মাটির নিচে বা নদীর তলদেশে দীর্ঘদিন চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা জানান। তাই অজানা কোনো বস্তু পেলে তা স্পর্শ না করে দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন বা পুলিশের কাছে জানানো উচিত বলেও তারা সতর্ক করেছেন।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কও সৃষ্টি করেছে। তবে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক