ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক কারাবন্দির মৃত্যু হয়েছে। নিহত বন্দির নাম খান মো. তোরাব আলী (৭৩)। তিনি কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি হাসপাতালে মারা যান বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কারা সূত্র জানায়, কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে খান মো. তোরাব আলীকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় কারারক্ষী এরশাদসহ কয়েকজন কারারক্ষী তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, মৃত্যুর পর মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।
কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, খান মো. তোরাব আলী দীর্ঘদিন ধরে একটি হত্যা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত অবস্থায় কারাগারে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মানিকগঞ্জ থানায় ১৯৯১ সালের ৭ নম্বর মামলায় দণ্ড কার্যকর ছিল, যার ধারা ছিল ৩০২, ৩২৪ ও ১১৪ দণ্ডবিধি। তিনি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার চরহিজুলী গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নিয়ম অনুযায়ী তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ঢামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কারাবন্দিদের চিকিৎসা পরিস্থিতিতে সাধারণত বিশেষ নজরদারি রাখা হয়। তবে বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে হঠাৎ শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে অনেক সময় তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে কারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি প্রাথমিক তদন্ত শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে। নিয়ম অনুযায়ী কারাগারে থাকা বন্দির মৃত্যু হলে তার কারণ, চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হয়।
ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকায় কিছুটা শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর দণ্ডিত অবস্থায় থাকা একজন প্রবীণ বন্দির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক