দীর্ঘ দুই মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে আবারও শুরু হচ্ছে ইলিশ শিকার। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার খবরে জেলার জেলে পল্লী ও মাছঘাটগুলোতে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। জেলেরা নৌকা ও জাল নিয়ে নদীতে নামার শেষ প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ভোলার দুই লক্ষাধিক জেলে রাত ১২টা বাজলেই মাছ শিকারে নদীতে নামবেন বলে প্রস্তুত রয়েছেন। দীর্ঘ বিরতির পর নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পাওয়ার আশা করছেন তারা। এতে তাদের দীর্ঘদিনের ঋণ ও আর্থিক সংকট কিছুটা কাটবে বলে প্রত্যাশা।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ভোলার ইলিশা, তুলাতলী, ভোলার খাল ও নাছির মাঝিসহ বিভিন্ন ঘাট ঘুরে দেখা যায়, জেলেরা নৌকা মেরামত, জাল প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম গুছিয়ে নিচ্ছেন। নিষেধাজ্ঞার সময় যেসব নৌকা ঘাটে বাঁধা ছিল, সেগুলো এখন আবার প্রস্তুত করা হচ্ছে নদীতে নামানোর জন্য।
একইসঙ্গে মাছের আড়ৎগুলোতেও শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আড়ৎদাররা তাদের ব্যবসা পুনরায় শুরু করতে ঘর পরিষ্কার ও সাজসজ্জার কাজ করছেন। তারা আশা করছেন, এবার ইলিশের ভালো আহরণ হলে গত দুই মাসের ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
ইলিশা ইউনিয়নের জেলে মো. মিলন মাঝি জানান, তিনি ১৫ বছর ধরে এই পেশায় আছেন। নিষেধাজ্ঞার দুই মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে, যা এখন মাছ বিক্রি করে শোধ করার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
অন্যদিকে কাচিয়া মাঝের চরের জেলে মো. জসিম মাঝি জানান, তার নৌকার আটজন জেলে দীর্ঘ বিরতির পর আবার নদীতে নামার জন্য প্রস্তুত। তারা আশাবাদী, এবার মাছ শিকার ভালো হবে।
তবে কিছু জেলে অভিযোগ করেন, নিষেধাজ্ঞার সময় কিছু অসাধু ব্যক্তি অবৈধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করেছে, যা ইলিশের প্রজননে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। তারা এসব অবৈধ জাল বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
ধনিয়া তুলাতুলি মাছ ঘাটের আড়ৎদার মো. ইউনুছ বেপারী বলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্যবসা বন্ধ ছিল। এখন জেলেরা মাছ ধরতে প্রস্তুত হওয়ায় আড়ৎও সচল হচ্ছে। ভালো মাছ পাওয়া গেলে তারা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর ১৯০ কিলোমিটার অভয়াশ্রমে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ সময় জেলেদের সচেতন করার পাশাপাশি নিয়মিত অভিযান চালানো হয়েছে এবং খাদ্য সহায়তাও প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগের ফলে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে এবং এর সুফল সরাসরি জেলেরা পাবেন। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি।
কসমিক ডেস্ক