গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনার সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সর্বপ্রথম বেইমানি করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। শনিবার সকালে ঝিনাইদহের নিজ গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মুরারীদহ মিয়ার দালান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ডা. শফিকুর রহমানকে কারাবন্দি ও নিপীড়নের শিকার হতে হয়েছিল। সে কারণে একসময় তিনি শফিকুর রহমানকে ‘মজলুম নেতা’ হিসেবে মনে করতেন। তবে গণঅভ্যুত্থানের পর তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে রাশেদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে বলে জানান তিনি।
জামায়াত আমিরের বিরুদ্ধে রাশেদের অভিযোগ
রাশেদ খাঁনের অভিযোগ, গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে সর্বপ্রথম সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন জামায়াত আমির। এ কারণে তিনি মনে করেন, গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে প্রথম বেইমানি করেছেন ডা. শফিকুর রহমান। তবে বক্তব্যে তিনি যে ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণার কথা বলেছেন, তার বিস্তারিত কোনো তথ্য তুলে ধরেননি।
জামায়াত আমিরের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ। তাঁর দাবি, ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে থাকাকালে মগবাজারের জামায়াত কার্যালয়ের তালাও খোলা যায়নি। অথচ বর্তমানে তাঁকে বিএনপির পতন ঘটানোর সক্ষমতাসম্পন্ন নেতা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতের নেতা ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন রাশেদ খাঁন। তাঁর অভিযোগ, বিদেশিদের সঙ্গে বৈঠকে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দলটি ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার কথা কোথাও বলেনি। রাশেদের দাবি, দলটির নির্বাচনী ইশতেহারেও এমন কোনো ঘোষণা নেই।
জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা
জামায়াত রাজনৈতিকভাবে ইসলামকে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ করেন রাশেদ। তাঁর ভাষ্য, জাতীয় সংসদে জনগণকে ‘আইওয়াশ’ করার জন্য কোরআনের আইন, আল্লাহর আইন ও শরিয়া আইনের কথা বলা হচ্ছে।
দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রসঙ্গে রাশেদ খাঁন বলেন, বাংলাদেশের পরিবর্তনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকা রয়েছে। ভবিষ্যতে দেশে কোনো পরিবর্তন এলে তা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বেই হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কসমিক ডেস্ক