জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভেতরে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সম্ভাব্য রাজনৈতিক জোট নিয়ে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জোটের বিরোধিতা করে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বরাবর ৩০ জন নেতার স্মারকলিপি দেওয়ার একদিনের মধ্যেই এবার ওই জোটের পক্ষে অবস্থান জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন দলের ১৭০ জন নেতা।
শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এনসিপির সদস্য ইয়াহিয়া জিসান। তিনি জানান, দলের সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখা এবং দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে সম্মান জানাতেই এই চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি কোনো ব্যক্তিগত অবস্থান নয়; বরং দলীয় কাঠামোর ভেতরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতাকে সমর্থন জানানোর উদ্যোগ।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা নিজেদের এনসিপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দলের আদর্শ, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল সমুন্নত রাখাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পুনর্গঠন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে টেকসই করা এবং জনমুখী ও দায়বদ্ধ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে সময়োপযোগী ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
এতে আরও বলা হয়, দলীয় ও জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের বৃহত্তর লক্ষ্য বিবেচনায় রেখে এনসিপি যদি কোনো রাজনৈতিক দল বা জোটের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা বা জোট গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়, সে ক্ষেত্রে স্বাক্ষরকারীরা সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করবেন। নির্বাহী কাউন্সিলের সুপারিশের ভিত্তিতে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের নেওয়া যেকোনো সিদ্ধান্তের প্রতিও তারা আস্থা প্রকাশ করেন।
চিঠিতে নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বাস ব্যক্ত করে বলা হয়, তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে এনসিপি একটি সময়োপযোগী, গ্রহণযোগ্য ও ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সক্ষম হবে, যা দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করবে এবং জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মাহমুদা আলম মিতু, ইয়াহিয়া জিসানসহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা।
এর আগে একই দিনে এনসিপির ৩০ জন নেতা ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দায়বদ্ধতা ও দলীয় মূল্যবোধের আলোকে সম্ভাব্য জোট বিষয়ে নীতিগত আপত্তি’ শীর্ষক একটি স্মারকলিপি দেন। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে রাজনৈতিক জোট বা আসন সমঝোতার সম্ভাবনার বিরুদ্ধে নীতিগত আপত্তি জানানো হয় এবং বলা হয়, রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে দলীয় নীতিমালাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
এদিকে দলীয় এই অভ্যন্তরীণ বিতর্কের মধ্যেই এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ঢাকা-৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে এনসিপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল ও সাংগঠনিক দিকনির্দেশনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আরও জোরালো হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক