জার্মান ভাষা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে ইউরোপজুড়ে প্রতিক্রিয়া The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

জার্মান ভাষা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে ইউরোপজুড়ে প্রতিক্রিয়া

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 22, 2026 ইং
জার্মান ভাষা নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যে ইউরোপজুড়ে প্রতিক্রিয়া ছবির ক্যাপশন:
ad728

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউরোপীয় মিত্রদের সামনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “আমরা না থাকলে, এখন তোমরা সবাই জার্মান ভাষায় কথা বলতে।” তার এই মন্তব্য ঘিরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সমালোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জার্মান ভাষা সুইজারল্যান্ডের চারটি সরকারি ভাষার একটি এবং দেশটিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ভাষা। তবে ইউরোপের রাজনৈতিক মহলে ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে অপমানজনক, আধিপত্যবাদী এবং ঐতিহাসিকভাবে বিভ্রান্তিকর বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ব্রাসেলস, বার্লিন ও প্যারিসসহ ইউরোপের বিভিন্ন রাজধানীতে এই বক্তব্য নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

দাভোসে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প আবারও বলেন, ইউরোপ ভুল পথে এগোচ্ছে—এমন দাবি তিনি অতীতেও একাধিকবার করেছেন। তবে ইউরোপের মাটিতে দাঁড়িয়ে মিত্র ও বন্ধুদেশগুলোর প্রতিনিধিদের সামনে এমন মন্তব্য করায় এর প্রভাব আরও তীব্র হয়েছে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।

ভাষণ শেষে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ইউরোপের আটটি দেশের ওপর আরোপের হুমকি দেওয়া নতুন শুল্ক প্রত্যাহার করা হচ্ছে। তিনি জানান, ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর গ্রিনল্যান্ড ও পুরো আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে একটি ‘চুক্তির কাঠামো’ তৈরি হয়েছে।

বিবিসি বলছে, এই কাঠামো কীভাবে গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানা সংক্রান্ত ট্রাম্পের আগ্রহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, তার প্রস্তাবিত ১০ শতাংশ শুল্ক আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লক্কে রাসমুসেন কোপেনহেগেনে সাংবাদিকদের বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্যে বোঝা যায় যে তার উচ্চাকাঙ্ক্ষা এখনও অটুট রয়েছে। যদিও সামরিক শক্তি ব্যবহার না করার ঘোষণাকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, তবুও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ন্যাটোর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হবে গ্রিনল্যান্ডে রাশিয়া ও চীনের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক বা সামরিক উপস্থিতি রোধ করা। তবে আলোচনার সময়সূচি ও স্থান এখনও নির্ধারিত হয়নি। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং দূত স্টিভ উইটকফ অংশ নেবেন।

এর আগে দাভোসে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো অবস্থাতেই সামরিক শক্তি প্রয়োগ করবে না। তিনি বলেন, “অনেকে ভেবেছিল আমি শক্তি ব্যবহার করব, কিন্তু আমি তা করব না। আমি বলপ্রয়োগ চাই না।”

ট্রাম্পের অবস্থান কিছুটা নমনীয় হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ওয়াল স্ট্রিটে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক দুই মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় একদিনের উত্থান রেকর্ড করেছে। তবে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের মতে, উত্তেজনা সাময়িকভাবে কমলেও গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে মূল বিরোধ এখনও অমীমাংসিত। এ বিষয়ে গ্রিনল্যান্ডের সরকার তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
আতঙ্কে রাজধানী, ২৪ ঘণ্টায় চার নারীর মরদেহ উদ্ধার

আতঙ্কে রাজধানী, ২৪ ঘণ্টায় চার নারীর মরদেহ উদ্ধার