জামায়াত–চরমোনাই–এনসিপি জোটে আসন সমঝোতা নিয়ে বাড়ছে অবিশ্বাস The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

জামায়াত–চরমোনাই–এনসিপি জোটে আসন সমঝোতা নিয়ে বাড়ছে অবিশ্বাস

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 2, 2026 ইং
জামায়াত–চরমোনাই–এনসিপি জোটে আসন সমঝোতা নিয়ে বাড়ছে অবিশ্বাস ছবির ক্যাপশন:
ad728

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট এখনো অভ্যন্তরীণ সমঝোতা সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। আসন বণ্টন নিয়ে জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যে বাড়ছে অস্বস্তি ও অবিশ্বাস, যা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

গত রোববার জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য একটি ১০ দলীয় জোটের ঘোষণা দেন। এই জোটে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) যুক্ত রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৩০০ সংসদীয় আসনে মোট ২ হাজার ৫৮২টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই জোট থেকেই ৬০০-এর বেশি প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। দলভিত্তিক হিসাবে জামায়াতে ইসলামী ২৭৬টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি, খেলাফত মজলিস ৬৮টি, এবি পার্টি ৫৩টি, এনসিপি ৪৪টি এবং এলডিপি ২৪টি আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছে।

জোটভুক্ত কয়েকটি দলের নেতাদের বক্তব্যে স্পষ্ট, আসন সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে অতিরিক্ত প্রার্থী রাখা হয়েছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত দরকষাকষি চলবে বলে ইঙ্গিত মিলছে।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সম্ভাব্য ভুলত্রুটি ও জটিলতা মাথায় রেখে কিছু অতিরিক্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, কয়েক দিনের মধ্যেই দলের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা পরিষ্কার হবে।

অন্যদিকে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু জানান, জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে তাদের তিনটি আসনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে বাকি আসন নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই জোটে থাকা না থাকার বিষয়ে অবস্থান জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আসন সমঝোতা নিয়ে বড় কোনো সংকট নেই। তার দাবি, জোট ভাঙার বিষয়ে যে আলোচনা হচ্ছে, তার চেয়ে প্রচারণাই বেশি। সব সমস্যা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এর আগে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরও গণমাধ্যমে একই ধরনের বক্তব্য দেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় নির্বাচনী জোটে এই ধরনের দ্বন্দ্ব নতুন নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. স ম আলী রেজা বলেন, নির্বাচনী জোট মূলত একটি দরকষাকষির কাঠামো। চূড়ান্ত সমঝোতার আগে মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব থাকাই স্বাভাবিক। তিনি আরও বলেন, ছোট দলগুলো জোটের মাধ্যমে নির্বাচনী সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে—এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন কিছু নয়।

সব মিলিয়ে, মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা যত এগিয়ে আসছে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ভেতরে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচল ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে